দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন করে দেখা দিয়েছে আশার আলো। প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার সরকার। এ খবরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বইছে খুশির হাওয়া।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে থাইল্যান্ডে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী উ থান শিউ এই প্রত্যাবাসন বিষয়ে সম্মতি জানান। প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা নেতাদের প্রত্যাশা: নিরাপত্তা ও অবস্থান নিশ্চিত হোক
রোহিঙ্গা নেতারা এ অগ্রগতিকে স্বাগত জানালেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা এবং পুনর্বাসন স্থানের বিষয়ে।
আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবায়র বলেন, “আমরা ফিরতে চাই, কিন্তু কোথায় নেওয়া হবে? মিন অং হ্লাইং আর্জেন্টিনার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তি, তার হাতে আরাকান নেই। আমাদের জন্য নিরাপদ জোন কি নির্ধারণ করা হয়েছে?”
তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার যদি বিশ্ববাসীর সামনে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল নির্ধারণ করে ঘোষণা দেয়, তাহলে রোহিঙ্গারা মন থেকে খুশি হবে।
জাতিসংঘ ও অন্তর্বর্তী সরকারের সক্রিয়তা
গত মার্চে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কক্সবাজার সফর করেন। তারা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেন এবং তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই সফরের মাত্র এক মাসের মধ্যে এত বড় অগ্রগতি বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে।
প্রস্তুত বাংলাদেশ
প্রত্যাবাসনের জন্য কক্সবাজারের টেকনাফ ও বান্দরবানের ঘুমধুমে ট্রানজিট সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের অতিরিক্ত কমিশনার আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ।
তিনি বলেন, “তালিকা হাতে পেলেই শনাক্তকরণ ও প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”