অনেক সময় সুস্থ-সবল মানুষকে হঠাৎ মৃত্যুবরণ করতে দেখা যায়। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এসব মৃত্যুর অনেকগুলোই প্রতিরোধযোগ্য—শুধু প্রয়োজন সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, হঠাৎ মৃত্যুর পেছনে বেশিরভাগ সময় থাকে হৃদযন্ত্র বা শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা। তবে এমন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব—যদি আগে থেকেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ডিসিপ্লিনড লাইফস্টাইল’ বা শৃঙ্খলিত জীবনযাপনই হঠাৎ মৃত্যুর প্রধান প্রতিরোধক। এর মধ্যে রয়েছে—
-
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
-
সুষম খাবার খাওয়া
-
নিয়মিত ব্যায়াম
-
ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকা
-
মানসিক চাপ কমানো
-
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
-
যথাসময়ে ঘুম ও বিশ্রাম নিশ্চিত করা
ডা. আজাদ বলেন, “হঠাৎ মৃত্যুর কারণ যেটাই হোক না কেন, রোগীকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না দিলে জীবন বাঁচানো কঠিন। অথচ আমাদের দেশে বেশিরভাগ মানুষ শেষ মুহূর্তে চিকিৎসকের কাছে যান।”
তিনি আরও বলেন, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের লক্ষণগুলো যদি কেউ চিনতে পারে এবং দ্রুত হাসপাতালে নিতে পারে, তাহলে অনেক সময় প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়। যেমন—বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মুখ হেলে পড়া, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া ইত্যাদি।
বিশেষ করে যাদের পারিবারিক ইতিহাসে হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস আছে, তাদের নিয়মিত পরীক্ষা করানো ও ঝুঁকির দিকগুলো নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
সবশেষে চিকিৎসকেরা বলছেন, ‘হঠাৎ মৃত্যু’ একদিনে আসে না। শরীর আগে থেকেই সংকেত দেয়—আমরা যদি সেই সংকেতগুলোকে গুরুত্ব দিই, তাহলে অনেক মূল্যবান জীবন বাঁচানো সম্ভব।