ঠাণ্ডা-কাশি না নিউমোনিয়া? জেনে নিন পার্থক্য ও করণীয়

ঠাণ্ডা-কাশি না নিউমোনিয়া? জেনে নিন পার্থক্য ও করণীয়

প্রথমে সামান্য কাশি ও জ্বর থেকে শুরু হলেও, এটি নিউমোনিয়ার মতো ভয়ংকর রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। অনেকেই সাধারণ ঠাণ্ডা ভেবে গুরুত্ব না দেওয়ায় জটিল পরিস্থিতির শিকার হন। তাই নিউমোনিয়ার লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।

নিউমোনিয়া কীভাবে হয়?

ফুসফুসে ইনফেকশন হলে নিউমোনিয়া হয়। এটি মূলত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ফাঙ্গাস দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। এতে শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি হয় এবং ফুসফুসে তরল জমতে পারে।

কাদের জন্য ঝুঁকি বেশি?

✔️ ৬৫ বছরের বেশি বয়স্করা
✔️ ২ বছরের কম বয়সী শিশু
✔️ ডায়াবেটিস, ক্যানসার, এইচআইভি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম রয়েছে এমন ব্যক্তিরা
✔️ ধূমপায়ীরা

নিউমোনিয়ার লক্ষণ ও সাধারণ ঠাণ্ডার মধ্যে পার্থক্য

সাধারণ ফ্লুতে সাধারণত হালকা জ্বর, মাথাব্যথা ও নাক বন্ধ হয়। তবে নিউমোনিয়ায়—

🔴 বুকে ব্যথা
🔴 শ্বাস নিতে কষ্ট
🔴 কাশির সঙ্গে পুঁজ বা রক্ত
🔴 প্রচণ্ড জ্বর ও কাঁপুনি
🔴 শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমে যাওয়া

শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণ কম স্পষ্ট হলেও, তারা যদি বেশি ঘুমায়, খেতে না চায় বা বারবার বমি করে, তবে তা নিউমোনিয়ার লক্ষণ হতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সময়

✅ যদি ১০২ ডিগ্রির বেশি জ্বর থাকে
✅ শ্বাস নিতে কষ্ট হয়
✅ কাশির সঙ্গে রক্ত বা পুঁজ বের হয়
✅ ইমিউনিটি দুর্বল বা ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন

চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

নিউমোনিয়া নিরাময়ে অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ দেওয়া হয়।

প্রতিরোধে—

✔️ ধূমপান বন্ধ করুন
✔️ সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করুন
✔️ নিউমোনিয়ার টিকা নিন

সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন

ঠাণ্ডা-কাশিকে অবহেলা না করে লক্ষণ গুরুতর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিউমোনিয়া প্রতিরোধ সম্ভব হলে জীবন বাঁচানো সহজ হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের সর্বশেষ