ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ ফল: কোনটি খাবেন, কোনটি এড়িয়ে চলবেন?

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ ফল: কোনটি খাবেন, কোনটি এড়িয়ে চলবেন?

ডায়াবেটিস রোগীরা প্রায়ই ফল খাওয়ার বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। কারণ, ফলের প্রাকৃতিক চিনি (ফ্রুক্টোজ) রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। তবে সব ফল একই রকম প্রভাব ফেলে না। সঠিক পরিমাণ ও উপযুক্ত ফল নির্বাচন করলে তা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ
✅ পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি
– প্রতিদিন ১০০-১৫০ গ্রাম ফল খাওয়া নিরাপদ। অতিরিক্ত ফল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

✅ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) যাচাই করা
– গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম (৫৫-এর নিচে) এমন ফল খাওয়া ভালো, কারণ এগুলো ধীরে শর্করা বাড়ায় এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

✅ ফলের রস নয়, গোটা ফল খান
– ফলের রস থেকে ফাইবার বাদ পড়ে যায়, ফলে এটি দ্রুত রক্তে শোষিত হয় এবং শর্করা বাড়িয়ে দেয়। পুরো ফল খেলে শরীর ধীরে ধীরে শর্করা গ্রহণ করে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী ফল
✔ জাম – গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ২৫। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং অ্যান্টি-ডায়াবেটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

✔ পেয়ারা – গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ১২, যা অত্যন্ত কম। এটি হজমে সহায়ক এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়।

✔ আপেল – গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৩৬। এতে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা রক্তে শর্করার স্তর স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

✔ লেবু ও কমলা – কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত হওয়ায় এগুলো রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায় না, বরং ভিটামিন সি এবং ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।

✔ বেরি জাতীয় ফল (স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরি) – এগুলোতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার বেশি থাকে, যা ইনসুলিন কার্যকারিতা উন্নত করে এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ ধীরে বাড়ায়।

✔ আঙুর (সংযত মাত্রায়) – এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে।

যেসব ফল কম খাওয়া উচিত বা এড়িয়ে চলা ভালো
❌ আম – উচ্চমাত্রার চিনি থাকায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।

❌ কলা – এতে কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকায় এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করে।

❌ আনারস – প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকায় এটি দ্রুত শর্করা বাড়িয়ে দিতে পারে।

❌ তরমুজ – এতে পানির পরিমাণ বেশি হলেও গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি হওয়ায় এটি শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে।

❌ কাঁঠাল – উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেট থাকায় এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।

পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসকের পরামর্শ অপরিহার্য
ফল নির্বাচন ও পরিমাণের ক্ষেত্রে একজন ডায়াবেটিস রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই, ডায়াবেটিস রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী একটি পরিকল্পিত খাদ্য তালিকা অনুসরণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সচেতনতা অবলম্বন করুন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের সর্বশেষ