ওয়াকফ বিল পাস, উত্তাল লোকসভায় ওয়াইসির প্রতিবাদ

ওয়াকফ বিল পাস, উত্তাল লোকসভায় ওয়াইসির প্রতিবাদ

ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে আরেকটি বিতর্কিত আইন সংযোজিত হলো বুধবার রাতে। ২০২৪ সালের ওয়াকফ সংশোধনী বিল লোকসভায় পাস হওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় টানাপড়েন।

এই বিলের মাধ্যমে মুসলিম ধর্মীয় সম্পত্তি—যেমন মসজিদ, মাদ্রাসা, দারুল উলুম, কবরস্থান ইত্যাদি নিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। এছাড়াও অমুসলিম সদস্যদের ওয়াকফ বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও বিরোধীদের রোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিরোধীদের ভাষায়, এটি “মুসলিমদের ধর্মীয় স্বায়ত্তশাসনের উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ”। এআইএমআইএম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বিলটি ছিঁড়ে লোকসভায় প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন:

“এই বিল পাস হওয়ার মানে হলো—দেশে প্রাচীন মন্দিরগুলো রক্ষা পাবে, কিন্তু মুসলিমদের মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সুরক্ষিত থাকবে না। বিজেপি সরকার সংঘাত ছড়াতে চায়, মুসলিমদের হেয় করতে চায়।”

ওয়াইসি আরও বলেন, এই বিল সংবিধানের ২৫ ও ২৬ অনুচ্ছেদ ভঙ্গ করছে, যা সকল ধর্মের সমান অধিকার ও ধর্মপালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—সরকার যদি সত্যিই স্বচ্ছতা চায়, তাহলে হিন্দু বা জৈন মন্দির বা গির্জার সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে কেন আগ্রহ দেখায় না?

সরকার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই বিল ওয়াকফ সম্পত্তিতে বছরের পর বছর ধরে চলা জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকাবে। তবুও বিরোধীরা বলছে, এই আইন আসলে একটি বড় সম্প্রদায়ের মৌলিক অধিকার খর্ব করার পথ খুলে দিয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে ওয়াইসির বক্তব্য ও প্রতিবাদী অবস্থান নিয়ে। অনেকেই বলছেন, এই বিল মুসলিমদের ‘নীরব দমন নীতির’ আরেকটি অধ্যায়।

এখন বিলটি রাজ্যসভায় উত্থাপিত হবে। সেখানেও প্রবল বিরোধিতার সম্ভাবনা রয়েছে। নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের সর্বশেষ