শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সোনার দাম কমলো সাড়ে ২৩ হাজার

বাংলার চোখ নিউজ :

বিশ্ববাজারে ব্যাপক দরপতনের মধ্যে পড়েছে সোনা। প্রায় দুই মাস ধরে টানা দাম কমছে। বিশ্ববাজারে ব্যাপক দরপতন হওয়ায় বাংলাদেশের বাজারেও সোনার দাম কমানো হয়েছে। তবে বিশ্ববাজারে যে হারে দরপতন হয়েছে বাংলাদেশের বাজারে সেই হারা দাম কমেনি। গত দুই মাসে দেশের বাজারে সব থেকে ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে কমানো হয়েছে সাড়ে ২৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে এক ভরি সোনার দাম কমেছে ৩৪ হাজার টাকার ওপরে। বিশ্ববাজারে সোনা লেনদেন হয় আউন্স হিসাবে। এক আউন্স সোনায় ২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম হয়। আর ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে হয় এক ভরি। এ হিসাবে এক আউন্স সোনায় ২ দশমিক ৪৩ ভরি হয়।তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২৫ আগস্ট বিশ্ববাজারে এক আউন্স সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ৬৫৮ ডলার। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে এখন তা ৩ হাজার ৯৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ৬৬৪ ডলার। প্রতি ডলার ১২৫ টাকা ধরলে এক আউন্স সোনার দাম কমেছে ৮৩ হাজার টাকা। আর এক ভরি সোনার দাম কমেছে ৩৪ হাজার ১৪৯ টাকা। বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমার পাশাপাশি দেশের বাজারেও সোনার দাম কমানো হয়েছে। দেশের বাজারে সোনার দাম নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২৫ আগস্ট থেকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৮ বার সোনার দাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ বার দাম কমানো হয়েছে এবং ৫ বার দাম বাড়ানোর ঘটনা ঘটেছে।

এর মধ্যে শেষ তিন দফা টানা দাম কমানো হয়েছে। এই তিন দফায় সব থেকে ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে ৭ হাজার ১১৫ টাকা। আর সর্বশেষ ২৩ অক্টোবর ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা।এতে এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনা ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।গত ২৫ আগস্ট দেশের বাজারে সব থেকে ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম ভ্যাটসহ ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। অর্থাৎ গত দুই মাসে ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমেছে ২৩ হাজার ৫৬১ টাকা। অথচ এই সময়ে বিশ্ববাজারে এক ভরি সোনার দাম কমেছে ৩৪ হাজার ১৪৯ টাকা। অর্থাৎ ব্যাপক দরপতনের মধ্যে বিশ্ববাজারের তুলনায় দেশের বাজারে ভরিতে সোনার দাম ১০ হাজার ৫৮৮ টাকা কম কমানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বাজুসের এক সদস্য বলেন, সোনার দাম বাড়া বা কমার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই। বিশ্ববাজারের ওপর নির্ভর করেই দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো বা কমানো হয়। তবে বিশ্ববাজারে যে হারে দাম বাড়ে বা কমে সব সময় সেই হারে দেশের বাজারে দাম নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না। কারণ বাজুস স্থানীয় বুলিয়ান মার্কেটের দামের ওপর ভিত্তি করে দাম সমন্বয় করে। তেজাবী সোনার দাম যে হারে বাড়ে বা কমে সেই হারে সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করে বাজুস।

এদিকে সোনার গহনার দাম কমানোর পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার গহনার দামও কমানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ৩২৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ২ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারের তুলনায় দেশের বাজারে সোনার দাম কম হারে কমানো হলেও রুপার দাম বেশি কমানো হয়েছে। ২৫ আগস্ট থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্ববাজারে এক আউন্স রুপার দাম কমেছে ১৪ দশমিক ৭২ ডলার। প্রতি ডলার ১২৫ টাকা করে ধরলে এই সময়ে বিশ্ববাজারে রুপার দাম ভরিতে কমেছে ৭৫৭ টাকা। অন্যদিকে এই সময়ে দেশের বাজারে সব থেকে ভালো মানের এক ভরি রুপার গহনার দাম কমানো হয়েছে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা।বাজুসের সভাপতি এনামুল হক দোলন জাগো নিউজকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়লে দেশের বাজারেও বাড়ানো হয়, আর কমলে কমানো হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমার সঙ্গে সমন্বয় করেই দেশের বাজারে দাম কমানো হয়েছে। বিশ্ববাজারে যতটুকু দাম কমেছে, দেশের বাজারেও ঠিক ততটুকু কমানো হয়েছে।তিনি বলেন, আমাদের দেশে সোনার কোনো খনি নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়লে আমরা বাড়াই, আর কমলে কমাই। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমেছে, তাই আমরাও কমিয়েছি।

শেয়ার করুন