দৈনিক বাংলার চোখ :
তিন দশকের বেশি সময় আগের ঘটনা। নিউইয়র্কের একটি হোটেলে পরিচয়, এরপর অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ। ২০২৪ সালে সেই ঘটনা সামনে এনেছিলেন সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড ও মডেল বিয়াত্রিস কিউল।
এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিয়াত্রিস কিউলের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। জেফরি এপস্টেইনের অপরাধের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে আরও কয়েকজন নারীর অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে কিউলের বয়স ছিল ২৪ বছর। সে সময় নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় হন তার।
ট্রাম্প তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে, ট্রাম্পের এক প্রতিনিধি তাকে হোটেলের ওপরের তলায় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে নিয়ে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানেই ট্রাম্প তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন কিউল। এসময় তার পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তপাত ও কালশিটে দাগ হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ঘটনার পর ট্রাম্প তাকে চুপ থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে বলেন বলেও অভিযোগ করেছেন কিউল। তবে, এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই। অভিযোগগুলো অস্বীকার করে এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিউল বলেছিলেন, ট্রাম্প তাঁর ঠোঁট ও ঘাড়ে চুমু দিয়েছিলেন এবং পোশাক তোলার চেষ্টা করেছিলেন। তবে, কথা বলার অনুরোধ জানালে ট্রাম্প থেমে যান বলে দাবি করেছিলেন তিনি। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক নারী ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের মধ্যে লেখক ই জিন ক্যারল অন্যতম। তার অভিযোগ, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের একটি বিপণিবিতানে ট্রাম্প তাকে ধর্ষণ করেছিলেন। ট্রাম্প অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০২৩ সালে ক্যারলের করা একটি দেওয়ানি মামলায় জুরি ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির জন্য দায়ী করেন। তবে, ধর্ষণের অভিযোগটি প্রমাণিত বলে রায় দেননি তারা। পরে, আরেকটি মানহানির মামলাতেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রায় হয়।
এদিকে, জিল হার্থ ১৯৯০-এর দশকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছিলেন। ‘কেটি জনসন’ ছদ্মনামে পরিচিত এক নারীও দাবি করেছিলেন, ১৩ বছর বয়সে এপস্টেইনের বাসায় ট্রাম্প তাকে ধর্ষণ করেছিলেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ ও তা সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক চলছে। একই সঙ্গে, মূল্যস্ফীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দামও রিপাবলিকান প্রার্থীদের চাপে ফেলেছে।





