ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার জয়কে ‘পাতানো’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিজের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি। একই সঙ্গে লুলাকে পছন্দ করেন বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
গত সোমবার মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটিকেও আরেকটি ‘কারচুপিপূর্ণ’ নির্বাচন বলে মনে হয়েছে।’ তার মতে, নির্বাচন নিয়ে যা ঘটেছে, তা বিশ্ববাসীর কাছে খুবই খারাপ বার্তা দিয়েছে। নির্বাচন অবশ্যই সন্দেহাতীত হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ব্রাজিলের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নেবে কি-না, এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি ব্রাজিল চালাচ্ছি না, আমি যুক্তরাষ্ট্র চালাচ্ছি।’ একই সঙ্গে লুলাকে পছন্দ করেন বলেও জানান তিনি। তবে তার ভাষায়, পুরো ঘটনাটি ছিল ‘খারাপ চিত্র’।
রোববারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে চতুর্থ মেয়াদ নিশ্চিত করেন লুলা। এই জয় ট্রাম্প ও তার রাজনৈতিক অনুসারীদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প সরাসরি কোনো প্রার্থীকে সমর্থন না করলেও ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রতি বিভিন্ন সময়ে সমর্থনসূচক মনোভাব দেখিয়েছেন। ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলন ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ শিবিরের অনেকেও বলসোনারোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ফ্লাভিওর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকেও প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফ্লাভিও বলসোনারোও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, রোববার রাতে লুলার নিয়োগ দেওয়া ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি ভোট গ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবহনসংকটের কারণে ভোটারদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এছাড়া ট্রাম্পও ভোটের সময় বাড়ানোর বিষয়টিকে ‘খুবই অদ্ভুত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্ধিত সময়ে ৩৫ হাজারেরও কম ভোট পড়েছিল। অন্যদিকে লুলা প্রায় ৪০ লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া বলসোনারোর দলও কয়েকটি অঞ্চলে ভোটকেন্দ্র খোলা রাখার সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিল।
ফ্লাভিও বলসোনারো তার বাবার মতোই নির্বাচনের ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং ফল বাতিলের দাবি তুলেছেন। জইর বলসোনারোও চার বছর আগে নির্বাচনে পরাজয়ের পর একই ধরনের অবস্থান নিয়েছিলেন।
লাতিন আমেরিকার নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী গবেষকদের মতে, ব্রাজিলের নির্বাচনী ব্যবস্থা এ অঞ্চলের অন্যতম নিরাপদ ব্যবস্থা। দেশটিতে ১৮ থেকে ৬৯ বছর বয়সীদের ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক। খারাপ আবহাওয়া ও পরিবহন সমস্যায় কিছু ভোটার কেন্দ্রে যেতে না পারায় উভয় পক্ষই ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দেখাতে পেরেছিল।





