মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দেশ রক্ষার জন্য যুদ্ধে নামার আহ্বান তারেক রহমানের

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ঘরে বসে নয়, মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে তাদের সাথে কথা বলতে হবে। তার ভাষায়—“এই লড়াইয়ে যদি আমরা পিছিয়ে যাই, দেশ ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে। মানুষের স্বার্থেই আমাদের নামতে হবে।”

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এই আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কিভাবে চলবে—এর সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এখনো কোনো রাজনৈতিক দল উপস্থাপন করতে পারেনি। বিএনপিই একমাত্র দল, যারা এই নকশা দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

যুবদলকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এ কর্মসূচিতে তিনি লন্ডন থেকে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল বলে দাবি করে তিনি বলেন, “সেই সময় যা ঘটেছিল—তা আমরা কেউই আর দেখতে চাই না। প্রত্যেক মানুষের জন্মগত অধিকার—সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকা—নিশ্চিত করতে হবে।”

নারী, কৃষি ও শিক্ষা খাত নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নারীদের আর্থিক কাজে যুক্ত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে পুরো দেশেই নারীরা ধীরে ধীরে স্বনির্ভর হবে। কৃষিখাতে রপ্তানি বৃদ্ধির দিকটিকেও তিনি গুরুত্ব দেন।

শিক্ষার কাঠামোর পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার বক্তব্য—শিক্ষার্থীরা ইংরেজির পাশাপাশি আরও একটি আন্তর্জাতিক ভাষায় দক্ষ হবে এমন ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।

মেগা প্রকল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, “এ ধরনের প্রকল্পে দুর্নীতির ঝুঁকি থাকে। আমরা বড় বড় প্রকল্প নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নে রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় করবো।” বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১০ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী হবে বলেও জানান তিনি।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এখনই কাজ শুরু করা গেলে আগামী দশকে এর সুফল পাওয়া যাবে বলে তিনি মত দেন।

খেলাধুলা ও নগর পরিকল্পনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া—এই তিন মন্ত্রণালয়কে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। নগর এলাকায় শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে বাজারমূল্যে জমি কিনে খেলার মাঠ তৈরি করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, কৃষকদলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী।

শেয়ার করুন