ভেনেজুয়েলার প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো ঘোষণা করেছেন যে তিনি শীঘ্রই দেশে ফিরে আসবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, “আমার দল একটি অবাধ নির্বাচনে জয়ী হতে পুরোপুরি প্রস্তুত।” ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।
সোমবার রাতের ফক্স নিউজ সাক্ষাৎকারে ৫৮ বছর বয়সী মাচাদো বলেন, “আমি যত দ্রুত সম্ভব ভেনেজুয়েলায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি।”
মাচাদো গত অক্টোবরে ছদ্মবেশে দেশ ত্যাগ করেন। ওই সময় তিন সন্তানের জননী এই আইনজীবী নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন এবং পুরস্কারটি ট্রাম্পের প্রতি উৎসর্গ করেন।
তিনি আরও জানান, “২০২৪ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির মধ্যেও আমরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলাম। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পাব।”
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। এনবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আগে আমাদের দেশটিকে ঠিক করতে হবে। এখন নির্বাচন সম্ভব নয়। মানুষ ভোট দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। এমনকি নির্বাচনের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা অবাস্তব।”
মাচাদো জানিয়েছেন, নোবেল জয়ের পর থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শেষে মাদুরো বন্দি হওয়ার পর এটি মাচাদোর প্রথম সাক্ষাৎকার। নিরাপত্তার কারণে তিনি নিজ অবস্থান প্রকাশ করেননি। এখনও ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর সোশ্যালিস্ট পার্টির অনুগতরা ক্ষমতায় রয়েছে এবং মাচাদোর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল রয়েছে।
ট্রাম্প এখনও মাচাদোর প্রতি স্পষ্ট সমর্থনের ইঙ্গিত দেননি, যা বিরোধী শিবিরের জন্য হতাশাজনক। মার্কিন প্রশাসন আপাতত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। মাচাদো রদ্রিগেজকে “নির্যাতন, দুর্নীতি ও মাদক পাচারের স্থপতি” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মাদুরো সরকারের পতনের দিনটিকে (৩ জানুয়ারি) তিনি ঐতিহাসিকভাবে “অত্যাচারের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয়” হিসেবে উল্লেখ করেন। মাচাদো বলেন, “ভেনেজুয়েলার জনগণের পক্ষ থেকে আমি তার (ট্রাম্পের) সাহসী ভিশনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।”
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর বিশ্বের বৃহত্তম তেলের খনি দেশের তেল শিল্প হবে আমেরিকার জ্বালানি হাব।
এদিকে সোমবার নিউ ইয়র্কের আদালতে হাজির করা হয় ৬৩ বছর বয়সী নিকোলাস মাদুরোকে। কমলা ও বাদামি রঙের কয়েদির পোশাক পরা মাদুরো নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি একজন মার্জিত মানুষ এবং এখনও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট।”
মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদসহ চারটি অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করেছে মার্কিন আদালত। তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। পরবর্তী শুনানি ১৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
কারাকাসে পরিস্থিতি এখনও থমথমে। সোমবার সংবাদ সংগ্রহের সময় ১৪ জন সাংবাদিককে সাময়িকভাবে আটক করা হয়। রাতে কারাকাসের আকাশে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেলেও সরকার দাবি করেছে, “সেগুলো অননুমোদিত ড্রোন তাড়াতে পুলিশের চালানো গুলি।”
সিআইএ ট্রাম্পকে জানিয়েছে, স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রদ্রিগেজ ও বর্তমান প্রশাসনের কর্মকর্তারা আপাতত ভালো বিকল্প হতে পারেন।
রাশিয়া, চীনসহ কয়েকটি দেশ লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, “ভেনেজুয়েলা এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে এবং বেসরকারি কোম্পানির সহায়তায় দেশটির তেল শিল্প পুনরুজ্জীবিত করা হবে।”





