ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আটক হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও সক্রিয় ও সাহসী ভূমিকায় দেখা দিচ্ছেন। তিনি সম্প্রতি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত দিক বিবেচনায়, গ্রিনল্যান্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি দখল করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় ট্রাম্প বলেন, “গ্রিনল্যান্ড আমাদের জন্য অপরিহার্য… এটি এখন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওই অঞ্চলে চীনা ও রাশিয়ান জাহাজ দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়ায় আমাদের উপস্থিতি প্রয়োজন। ডেনমার্ক পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা চাই ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বিষয়টি বোঝানো হোক এবং তারা জানুক, গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রিনল্যান্ড কোনও স্বাধীন দেশ নয়; এটি ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল। আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এই ভূখণ্ডে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। যদিও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যবস্থায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না, তবে দেশের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়গুলো পরিচালনা করে।
ট্রাম্প আরও বলেন, “ডেনমার্ক আমাদের প্রতিরক্ষার জন্য অপরিহার্য। তাই এ ধরনের অঞ্চল আমাদের দখলে থাকা উচিত।”
এই মন্তব্যের জবাবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডরিকসন তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি জানাতে চাই, গ্রিনল্যান্ড দখল করার কোনো অধিকার তাদের নেই। ডেনমার্কের তিনটি অঞ্চলের কোনো অংশই যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত নয়।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য কেবল কৌশলগত আগ্রহ ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ইঙ্গিতই নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বৃদ্ধির মনোভাবকেও প্রতিফলিত করছে।





