নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়ে দায়ের করা আপিলের ওপর আজ রায় ঘোষণা করবে আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই রায় দেবেন।
এর আগে গত ২১ অক্টোবর নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে করা আপিলের শুনানি শুরু হয়। পরের দিন ২২ অক্টোবর দ্বিতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রিটকারী বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে এই দু’দিন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া যুক্তি তুলে ধরেন। এরপর ২৩ অক্টোবর তৃতীয় দিনের শুনানি হয়। ২৮ অক্টোবর চতুর্থ দিনের শুনানিতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষে বক্তব্য শেষ করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। পরের দিন ২৯ অক্টোবর পঞ্চমদিন, ৩ ও ৪ নভেম্বর ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম দিনের শুনানিতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা— জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল— বক্তব্য উপস্থাপন করেন। নবম দিনে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
১০ দিনের শুনানি শেষে গত ১১ নভেম্বর আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল বিষয়ক রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেয় আপিল বিভাগ। এরপর ২১ অক্টোবর শুনানির দিন ঠিক করা হয়। প্রধান বিচারপতি রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তখন জানান, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফেরানো বা না ফেরানো— উভয় ক্ষেত্রেই আপিল বিভাগ এমন একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চাইছে, যাতে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা ভবিষ্যতে আর বিঘ্নিত না হয় এবং গণতন্ত্র সুদৃঢ় হয়।
সে সময় তিনি মন্তব্য করেন— তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিলে তা কখন থেকে কার্যকর হবে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গত দেড় দশকে দেশে নানাভাবে মানুষ শোষিত হয়েছে; গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও দমন-পীড়ন হয়েছে। বিচারব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এসব কারণেই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন ঘটে। তিনি ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটও উল্লেখ করেন।
১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু হয়। তবে ১৯৯৮ সালে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হলে ২০০৪ সালে হাইকোর্ট ব্যবস্থা বৈধ ঘোষণা করে রিট খারিজ করেন। পরে ২০০৫ সালে আপিল করা হয় এবং অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ করা হয়। বেশিরভাগ অ্যামিকাস ও তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার পক্ষে মত দেন। ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে। পরে সংসদে পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী।
এরপর তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের অধীনে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জোরালো হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি রিভিউ আবেদন করেন। এরপর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বীরমুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন পৃথক আবেদন দাখিল করেন।
সর্বমোট চারটি রিভিউ আবেদন একসঙ্গে শুনানি শেষে আজ রায়ের দিন নির্ধারিত হয়েছে।





