দৈনিক বাংলার চোখ :
বান্দরবানের লামা উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। বাবার নামে থাকা বিএনপির সদস্যপদ নবায়নের রসিদের তথ্য ও নম্বর ব্যবহার করে নিজের নামে ভুয়া রসিদ তৈরি করে সার ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া নির্ধারিত এলাকার প্রার্থীদের বাদ দিয়ে দূরবর্তী এলাকার বাসিন্দাকে ডিলার নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডিলারশিপ বাতিল ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. হোসেন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপজেলার লামা সদর ইউনিয়নের এম. হোসেন পাড়ার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষকদের জন্য সার ডিলার নিয়োগের কথা ছিল। এসব ওয়ার্ডের একাধিক প্রার্থী ডিলারশিপের জন্য আবেদন করলেও তাদের বাদ দিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেরাখোলা মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা আবুল মোতালেবকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আবুল মোতালেব একসময় লামা সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। তার বাবা মো. আমির হোসেনের নামে থাকা বিএনপির সদস্যপদ নবায়নের রসিদের তথ্য ও নম্বর ব্যবহার করে নিজের নামে একই বই নম্বরের আরেকটি রসিদ তৈরি করেন।
অভিযোগকারীর দাবি, রসিদটির বই নম্বর ৪৩৪৭৬। পরে আবুল মোতালেব বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ড আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান পান এবং সার ডিলারশিপের জন্য মনোনীত হন।
এ ছাড়া আবুল মোতালেব লামা মৌচাক সমবায় সমিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন উল্লেখ করে অভিযোগকারী দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও নীতিমালা উপেক্ষা করেই তাকে সার ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
মো. হোসেন বলেন, সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দাদের ডিলার নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। কিন্তু নির্ধারিত এলাকার বাইরে থেকে ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের দূরের এলাকা থেকে সার সংগ্রহ করতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। এতে প্রান্তিক কৃষকদের কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে, সার ডিলার নিয়োগের আগের কমিটিতে দায়িত্ব পালন করলেও নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন লামা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহীদ হোসেন। তিনি জানান, এর আগে একবার সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেই কমিটিতে তাকে রাখা হয়েছিল। পরে ওই নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন নিয়োগের কমিটিতে তিনি ছিলেন না। এ কারণে এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারছেন না।
অভিযোগের বিষয়ে আবুল মোতালেবের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও লামা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মনজুর আলম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমাকে দিয়ে কী লাভ? অভিযোগ করতে হলে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে করতে হবে।




