দৈনিক বাংলার চোখ :
সৌদি আরবে আবারও হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইস্ট ওয়েস্ট তেল পাম্পিং স্টেশন ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিয়ানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা। তবে এই হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই এই হামলার খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
এর আগে সৌদি জোট জানায়, তারা ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতিদের দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক ধ্বংস করেছে, যার একটি রিয়াদ অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সেটিকে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরেই হুতিরা সৌদির বিভিন্ন বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন, যা ছিল এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে রাজ্যটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা।
এদিকে উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে সোমবার (২৫ অক্টোবর) তেহরানে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। হুতি হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে ইরান ও এই জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে যাচ্ছে।
সংকট উত্তরণে পূর্বে সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে গত সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ রেখেছিল সৌদি আরব। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি প্রায় অবরুদ্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের খনিজ তেল রফতানির জন্য এই পাইপলাইনটিই সৌদির প্রধান বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। শনিবারও (২৪ অক্টোবর) পাম্পিং স্টেশনসহ ইয়াখবু ও রাবিগের তেল শোধনাগারে হামলার দাবি করেছিল হুতিরা।





