বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৫ সালে। দলটির স্লোগান আমাদের পতাকা আমাদের প্রাণ, সবার উপরে দেশ, উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি, গণতন্ত্রে বিশ্বাস ও ন্যয়ে অবিচল। দলটির আদর্শ, রাষ্ট্র জনগণের, উন্নয়ন জনগণের ক্ষমতা জনগণের। রিপাবলিকান অর্থ প্রজাতান্ত্রিক। যার অর্থ হলো রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের মতামত ও অধিবার থাকে। বংশগত উত্তারিধকার দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। এবং শাসকদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। এই পূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক মুক্তি, কৃষি স্বনির্ভরতা অর্জন, বিদেশি বিনিয়োগ, রপ্তানি বৃদ্ধি, দক্ষ মানব সম্পদ গড়া, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং দূর্নীতি, ঘুষ, রাহাজানি, হিংসা-বিদ্বেষ বন্ধ করতে বিশ্ব গণতন্ত্রের জনক, দুরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, মানবতার সৈনিক আব্রাহাম লিংকনের সফলতা-ব্যর্থতার আদর্শ থেকে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দলটির প্রতিষ্ঠাতা কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক নেতাজী কে.এম.আবু হানিফ হৃদয়, জন্মস্থান জেলা নারায়ণগঞ্জ হলেও রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, লেখালেখি সর্বোপরি রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে। তিনি অত্যান্ত ধৈর্যতার সহিত দলটি গঠনের পর নিবন্ধনের জন্য ১২ বছর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সাথে আইনী লড়াই করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নিবন্ধন লাভ করেন।
¬¬
দলটির চেয়ারম্যান তিনি ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হন। ২০১৪ সালে ১০ম জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র প্রার্থীতা ১% সমর্থন যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। তারপর তিনি ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে ব্যর্থতার হতাশা থেকে তার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা চাটার্ড কমার্স কলেজে বসে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন। ২০১৮ সালে একাদশ নির্বাচনের পূর্বে নিবন্ধনের সকল শর্ত মেনে আবেদন করলেও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন তা খারিজ করেদেন। খারিজের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের ভেকেশন কোর্টে রীট দাখিল করেন। বিচারপতি মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার ও কে.এম হাফিজুর রহমানের আদালত বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টিকে কেন নিবন্ধন দেয়া হবে না এইমর্মে কমিশনের বিরুদ্ধে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেন। পরবর্তীতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বিচারপতি আশরাফুল ইসলাম কোর্টে শুনানীর অপেক্ষামান থাকাকালীন ৬জন আইনজীবি নিয়োগের মাধ্যমে লড়াই শুরু করেন।
আদালতে রীট শুনানী চলাকালীন একাদশ নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমাদেন। আবারো ১% সমর্থন যাচাই-বাছাইয়ে কমিশন দু’টি মনোনয়নপত্রই বাতিল করেন। তিনি ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রামে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে ৩ বার গ্রেফতার হন, ডিবি অফিসে দুইদফা নির্যাতনের স্বীকার হন। ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জের এসপি কর্তৃক গুম, খুন, হুমকির রোষানলে পরে ব্যবসা-বাণিজ্য ও জমি হারান। ২০১৩ সালে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ইস্যুতে যাত্রাবাড়ী থানায় ২১ ঘন্টা নির্যাতিত হন। ২০১৪ সালে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেফতার করে যাত্রাবাড়ী থানায় একদিন আটকিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এতা অন্যায়, অত্যাচারের পরেও তিনি ধৈয্য হারাননি। ছাত্র জীবন থেকে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন নিয়ে কাজ করেন। দলমত যার যার নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতি সবার এই স্লোগানে নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও তিনি সবার কাছে বিশ্বস্থ ও স্নেহভাজন ছিলেন। দৈনিক বাংলার চোখ পত্রিকার সম্পাদক, শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, হৃদয় শিশু ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে প্রাকৃতিক বন্যা, দূর্যোগ, রোহিঙ্গা সেবাসহ মানবাধিকার নিয়েও তিনি কাজ করেছেন। আগামী দিনে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি দেশের উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগ, রপ্তানি বৃদ্ধি, শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন, তেল গ্যাস মজুত, প্র্যাকটিক্যাল কারিগরী শিক্ষা গ্রহণ, আধুনিক স্বাস্থ্যে ব্যবস্থা এবং ৬ মাস মেয়াদি যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।



