বাংলার চোখ নিউজ :
ব্যাংকিং খাত থেকে আত্মসাৎ ও পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, অর্থ পাচার ও চাঁদাবাজি বন্ধ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু এবং বেকারত্ব নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শনিবার সকাল ১১টায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ কংগ্রেস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কংগ্রেস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বাবুল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা বাচ্চু।
বক্তারা বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত আজ ইতিহাসের অন্যতম বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি, অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরি, ব্যাংকের ভল্টে স্বর্ণ সংক্রান্ত অনিয়ম এবং শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক কেলেঙ্কারির কারণে দেশের আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ব্যাংকিং খাতের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তারা বলেন, দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে শিল্পকারখানার জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত কোম্পানি নিবন্ধন, বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা এবং কার্যকর আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, ডিজিটাল ও জবাবদিহিমূলক করে ওভার-ইনভয়েসিং ও আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচারের সব পথ বন্ধ করতে হবে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক হয়রানির কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। ফলে নতুন শিল্প স্থাপনের গতি কমে যাচ্ছে, বিদ্যমান অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং দেশে বেকারত্ব ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তারা বলেন, বেকারত্ব দূর করতে কৃষি, শিল্প ও বিনিয়োগের সমন্বিত বিকাশের কোনো বিকল্প নেই।
বক্তারা আরও বলেন, আধুনিক সড়ক, রেল, নৌ ও বন্দরভিত্তিক যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তুলে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় কমাতে হবে। বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো দ্রুত চালু করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করতে হবে।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান কে এম আবু হানিফ হৃদয়, বাংলাদেশ কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মোঃ তুষার রহমান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আসাদ ইবনে হাফেজ গ্রেট, নির্বাহী কমিটির সদস্য আয়াতুল্লাহ আখতার, সাংবাদিক নাফিজ মাহবুব প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, দুর্নীতি, অর্থ পাচার, ঋণ কেলেঙ্কারি ও আর্থিক অনিয়ম বন্ধ করে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, বিনিয়োগবান্ধব ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে না পারলে দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।




