নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের বড়াইগ্রামে ৭ম শ্রেণীর এক মাদরাসা ছাত্রী (১৪)কে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করতো বাবা ও ছেলে| এক পর্যায়ে ৫ মাসের অন্তঃ¯^ত্তা হয়ে পড়লে অভিভাবকরা জানতে চান আসল ঘটনাটি| মেয়েটির দেওয়া তথ্য মতে জানা যায়, প্রতিবেশী সম্পর্কে নানাভাই ও তার ছেলের দ্বারা প্রায়ই সে ধর্ষণের শিকার হয়| পরে গ্রাম্য শালিসে ১০ লক্ষ টাকা কাবিননামা ও ৪ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার বিনিময়ে ছেলের সাথে বিয়ে দেয় গ্রাম প্রধানরা| কিন্তু এ বিয়ে ˆবধ নয় জানতে পেরে ভুক্তভোগী মেয়েটির বড় ভাই থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ সোমবার ভোরে বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করে| অভিযুক্ত বাবা ও ছেলের নাম শামসুল হক গাজী (৬০) ও আরিফুল ইসলাম (৩০)| তাদের বাড়ি উপজেলার বনপাড়া& পৌর শহরের মালিপাড়া পশ্চিমাংশ এলাকায়|
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগীর বাড়ির পাশে শামসুল হক গাজীর চা-বিস্কুটের দোকান রয়েছে| বিভিন্ন সময় বিস্কুট কিনতে আসতো ওই ছাত্রী| এতে তার নজর পড়ে মেয়েটির ওপর| খেয়াল রাখতো কখন মেয়েটিকে বাড়িতে একা পাওয়া যাবে| এক পর্যায়ে ফাঁকা বাড়িতে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে| এ ঘটনা কাউকে জানালে গলা টিপে মেরে ফেলবে বলে ভয় দেখায়| অপরদিকে বাবার অবর্তমানে মাঝে-মধ্যে রড মিস্ত্রি ছেলে আরিফুল ইসলাম চা-বিস্কুটের দোকান চালাতো| তারও নজর পরে ওই মেয়েটির ওপর| সুযোগ বুঝে ছেলে আরিফুল ইসলামও ফাঁকা বাড়িতে মেয়েটিকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে| আর এভাবেই প্রায়ই বাবা ও ছেলের দ্বারা সে ধর্ষণের শিকার হতো| এক পর্যায়ে শরীরে পরিবর্তন দেখে মেয়েটির মা ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে জানতে পারে সে গর্ভবতী| পরবর্তীতে বাড়িতে এসে বিস্তারিত বললে স্থানীয় গ্রাম প্রধানরা বৃহস্পতিবার রাতে শালিসে বসে ১০ লক্ষ টাকা কাবিননামা ও ৪ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার বিনিময়ে ছেলে আরিফুল ইসলামের সাথে ধর্ষণের শিকার অন্তঃ¯^ত্তা মেয়েটির বিয়ে দেয়| তবে এই বিয়ে শরিয়ত ও আইন মতে ˆবধ নয় জানতে পেরে ভুক্তভোগীর বড়ভাই বাদী হয়ে শনিবার রাতে বড়াইগ্রাম থানায় বাবা-ছেলেকে আসামী করে মামলা দায়ের করে|
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছালাম জানান, ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃ¯^ত্তার ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে| অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করে সোমবার দুপুরে নাটোর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে| ভুক্তভোগী মেয়েটির ডাক্তারী পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়েছে|





