দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ১২টি প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৪৩৩ কোটি ৯৬ লাখ ১৮ হাজার টাকার ঋণ জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারসহ (পিকে হালদার) ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলাগুলো বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দায়ের করা হয়। উপ পরিচালক মো. মশিউর রহমান এবং উপসহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকন মামলাগুলো দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা একাধিক প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ তৈরি করেছিল। প্রতিটি ঋণের ক্ষেত্রে ১-২টি কিস্তি পরিশোধ করা হলেও অনেক ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়নি। তাছাড়া, এমন ঋণগুলো বোর্ড সভার অনুমোদন নিয়ে কোনো আপত্তি ছাড়া রিসিডিউল করা হয়। প্রতিষ্ঠানের বাস্তব কার্যক্রম না থাকা সত্ত্বেও জাল কাগজ তৈরি করে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তদন্তে দেখা গেছে যে, অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত ঠিকানায় বর্তমানে কোন ব্যবসায়িক কার্যক্রম নেই এবং অনুকূলে ঋণ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই নতুন এবং কার্যত শূন্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল না।
পিকে হালদারের পাশাপাশি মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ছিদ্দিকুর রহমান, মাহফুজা রহমান বেবী, মোহাম্মদ আব্দুল হাফিজ, আব্দুল মোতালিব আহমেদ, সাবেক এমডি মো. রাসেল শাহরিয়ার, মো. মফিজ উদ্দিন চৌধুরী, উজ্জল কুমার নন্দী, মো. ওমর শরীফ, মো. মোস্তফা, মোস্তফা আমনিুর রশীদ, প্রিতীশ কুমার হালদার, বাসু দেব ব্যানার্জী, তাসিন বিন তানজীর, মো. ওমর ফারুক, মো. রফিকুল ইসলাম, উৎপল মজুমদার, সুকুমার সাহা, রামপ্রসাদ রায়, গোপাল চন্দ্র গাঙ্গুলী, আবু রাজীব মারুফ, অমল চন্দ্র দাস, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. নুরুল হক গাজী, মো. আবুল শাহজাহান, অঞ্জন কুমার রায়, কাজী মাহজাবিন মমতাজ, সোমা ঘোষ, মো. মোস্তাইন বিল্লাহ, অরুন কুমার কুন্ডু, প্রদীপ কুমার নন্দী, উদ্ধব মল্লিক, মো. আতাহারুল ইসলাম, বীরেন্দ্র কুমার সোম এবং অনিতা কর।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি-১৮৬০-এর ৪০৬, ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ধারা অনুসারে অভিযোগ আনা হয়েছে।
পিকে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইএলএফএসএলেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ২০২১ সালের শুরুতে দুর্নীতির অভিযোগে তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১৪ মে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোক নগর থেকে পিকে হালদার এবং তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে।





