জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’। সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস)সহ মোট ২১টি পদের মধ্যে ১৬টিতেই এই প্যানেলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
অন্যদিকে ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল পেয়েছে পাঁচটি পদ। বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা অধিকাংশ পদে জয় লাভ করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম জকসু নির্বাচনেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকল।
সহসভাপতি (ভিপি) পদে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে আবদুল আলীম আরিফ জয়ী হয়েছেন ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে। এই পদে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২৩ ভোট। সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ৫ হাজার ২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মাসুদ রানা। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আতিকুল ইসলাম তানজীল পেয়েছেন ৪ হাজার ২২ ভোট।
এ ছাড়া ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে মো. নুরনবী (৫ হাজার ৪০০ ভোট), শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল (৫ হাজার ৫২৪ ভোট), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মোছা. সুখীমন খাতুন (৪ হাজার ৪৮৬ ভোট), স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ (৪ হাজার ৪৭০ ভোট), আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হাবীব মোহাম্মদ ফারুক (৪ হাজার ৬৫৪ ভোট), আন্তর্জাতিক–বিষয়ক সম্পাদক নওশীন নাওয়ার (৪ হাজার ৪০১ ভোট), ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাইম (২ হাজার ৪৬৭ ভোট) এবং সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান (৩ হাজার ৪৮৬ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন।
ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেল তিনটি সম্পাদকীয় পদে জয় পেয়েছে। সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে তাকরিম মিয়া ৫ হাজার ৩৮৫ ভোট, পরিবহন সম্পাদক পদে মাহিদ হোসেন ৪ হাজার ২৩ ভোট এবং পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে মো. রিয়াসাল রাকিব ৪ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
কার্যনির্বাহী সদস্যের সাতটি পদের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পেয়েছে শিবির–সমর্থিত প্যানেল। সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ফাতেমা আক্তার (অওরিন), তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৩ হাজার ৮৫১। একই প্যানেলের আকিব হাসান (৩ হাজার ৫৮৮), শান্তা আক্তার (৩ হাজার ৫৫৪), জাহিদ হাসান (৩ হাজার ১২৪) ও মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক (২ হাজার ৯১৭ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন। ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেল থেকে মোহাম্মদ সাদমান আমিন (৩ হাজার ৩০৭ ভোট) ও ইমরান হাসান ইমন (২ হাজার ৬৩৬ ভোট) জয় লাভ করেন।
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী হল সংসদেও ইসলামী ছাত্রী সংস্থা–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়ী হয়েছেন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, সহসভাপতি (ভিপি) পদে মোছা. জান্নাতুল উম্মি ৫৫০ ভোট এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে সুমাইয়া তাবাসসুম ৫৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
ফলাফল ঘোষণার পর ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে আনন্দমিছিল বের করা হয়। মিছিলে ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘তুমি কে আমি কে—হাদি হাদি’, ‘গোলামি না আজাদি—আজাদি আজাদি’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ছয়টার পর ওএমআর যন্ত্রে ভোট গণনা শুরু হলেও দুটি যন্ত্রে ভিন্ন তথ্য আসায় গণনা সাময়িক স্থগিত করা হয়। পরে প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রথম ২৭৮টি ব্যালট হাতে গুনে যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাত গভীর হলে যন্ত্রে পুনরায় যাচাইয়ের সময় আবারও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত ভোরের দিকে পুনরায় গণনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন।





