রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চীনের সামরিক মহড়া তাইওয়ানের আন্তর্জাতিক সমর্থন ক্ষুণ্ণ করার কৌশল: এনএসবি

চীন ও তাই ওয়ানের পতাকা

তাইওয়ান শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি ব্যুরো (এনএসবি) জানিয়েছে, সম্প্রতি তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের পরিচালিত সামরিক মহড়া ছিল আন্তর্জাতিক সমর্থন ক্ষুণ্ণ করার জন্য নেওয়া কৌশলগত পদক্ষেপ।

এনএসবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামের মহড়ার মাধ্যমে বেইজিং গণতান্ত্রিক দেশগুলোর প্রতি বার্তা পৌঁছাতে চেয়েছে, যারা তাইওয়ানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, চীন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি হাইব্রিড যুদ্ধ কৌশলও ব্যবহার করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের গণতান্ত্রিক দেশগুলো প্রতিরোধ করছে।

মহড়াটি চীনের ইতিহাসে আঞ্চলিক ভৌগোলিক দিক থেকে সবচেয়ে বড় ছিল। মহড়ার অংশ হিসেবে চীন তাইওয়ানের দিকে ডজনখানেক রকেট নিক্ষেপ করেছে এবং দ্বীপের আশপাশে বিপুলসংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমান মোতায়েন করেছে। এর ফলে তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ বহু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এনএসবি বলেছে, চীনের পদক্ষেপ দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ব্যর্থতা ও সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে জনগণের অসন্তোষকে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী আবেগে রূপান্তর করার প্রচেষ্টা ছিল।

অপর দিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, “চীন যদি তাইওয়ানে সামরিক হামলা চালায়, তা জাপানের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি হতে পারে।”

সংস্থাটি মনে করছে, তাইওয়ানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরাসরি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীন তাইওয়ান ইস্যুতে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সামরিক মহড়ার উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা।

শেয়ার করুন