রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ম্যাক্রোঁ দম্পতির আইনি জয়, কারাগারে ১০

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর স্ত্রী ও দেশটির ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত ম্যাক্রোঁকে লক্ষ্য করে অনলাইনে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ও অপপ্রচারের দায়ে ১০ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন একটি ফরাসি আদালত। আদালতের রায়ে বলা হয়, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রিজিত ম্যাক্রোঁকে নিয়ে মিথ্যা ও অবমাননাকর তথ্য ছড়িয়ে সাইবার হয়রানিতে জড়িত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আটজন পুরুষ এবং দুইজন নারী রয়েছেন। তারা ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে ভিত্তিহীন দাবি ছড়ান এবং প্রেসিডেন্ট দম্পতির বয়সের পার্থক্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করে গুরুতর অপবাদ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, এসব মন্তব্য ছিল স্পষ্টতই বিদ্বেষপ্রসূত এবং ব্যক্তিগত সম্মানহানির উদ্দেশ্যে করা।

শাস্তির অংশ হিসেবে একজন আসামিকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আট মাসের স্থগিত কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি আদালত জরিমানা আরোপ, সাইবার বুলিং প্রতিরোধ বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং পাঁচজনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

বিচার চলাকালে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ও তার স্ত্রী অনলাইনে সংগঠিত মিথ্যা প্রচারণার শিকার হয়ে আসছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল একটি বহুল প্রচারিত গুজব, যেখানে দাবি করা হয় ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর জন্মনাম ছিল ‘জাঁ-মিশেল ত্রোন্যু’—যা বাস্তবে তার বড় ভাইয়ের নাম।

এছাড়াও দম্পতির মধ্যে ২৪ বছরের বয়সের ব্যবধান নিয়ে নানা কটূক্তি ও বিভ্রান্তিকর তুলনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়। দীর্ঘ সময় এসব আক্রমণ উপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ম্যাক্রোঁ দম্পতি।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) দেওয়া এই রায়কে ফ্রান্সে সাইবার হয়রানির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি প্রেসিডেন্ট দম্পতির জন্য একটি বড় আইনি সাফল্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

উল্লেখ্য, এ ঘটনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থি প্রভাবক ও পডকাস্টার ক্যান্ডেস ওউয়েন্সের বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন ম্যাক্রোঁ দম্পতি। তিনিও ব্রিজিত ম্যাক্রোঁকে নিয়ে অনুরূপ মিথ্যা দাবি ছড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আসামিপক্ষ দাবি করে, তাদের মন্তব্য ব্যঙ্গ বা রসিকতার অংশ ছিল। তবে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বিদ্বেষমূলক অপপ্রচারকে কোনোভাবেই ব্যঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না এবং সে যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

শেয়ার করুন