রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাম্পের টুপিতে ‘মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন’ লেখা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি

ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে কারাকাসের সেফ হোম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ছবিতে তাকে একটি টুপির সঙ্গে দেখা গেছে, যার উপরে লেখা আছে ‘মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন’, যা ট্রাম্পের বিখ্যাত স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’-এর পরিবর্তিত রূপ।

টুপিতে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের ইরানের পতাকার ছবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা সরাসরি ইরান সরকারের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্পের এই টুপির ছবি সোমবার সাবেক টুইটার প্ল্যাটফর্ম এক্সে পোস্ট করেন তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ও উগ্রপন্থি সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। পোস্টে গ্রাহাম উল্লেখ করেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের কাছে আরও শক্তিশালী করেছেন এবং তিনি গর্বিত যে মার্কিন হিসেবে তিনি স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে সাহসী ইরানীদের পাশে আছেন।

গত রোববার রাতে ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে ট্রাম্পের বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ এই ছবি তোলা হয়। রিপাবলিকান সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম বলেন, “আমি আশা করি ২০২৬ সাল এমন বছর হবে, যখন আমরা ইরানকে আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরিয়ে আনব।”

এছাড়া ট্রাম্প ইরান সরকারকে হুমকি দিয়েছেন যে, যদি ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের হত্যা চালিয়ে যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তা প্রতিহত করবে। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। জবাবে ইরান দোহায় মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। যদিও যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, কিন্তু ট্রাম্প সম্প্রতি পুনরায় হুমকি দিয়েছেন, যদি ইরান তাদের পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম পুনরায় শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক বিতর্কিত অভিযানের পর ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে ইরান, এবং এই টুপির ছবি আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

শেয়ার করুন