রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কথা বলা বন্ধ করুন :ট্রাম্পকে ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী 

ছবি: সংগৃহীত

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড দখল বা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার কোনো অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই। ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, ড্যানিশ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত তিনটি দেশের কোনো একটিকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার অধিকার নেই এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলা একেবারেই অর্থহীন।

ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য আসে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলারের একটি টুইটের পর, যেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ডের মানচিত্রকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে রাঙিয়ে ‘শিগগিরই’ শব্দটি লিখে পোস্ট করেছিলেন। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার সম্ভাবনার কথা তুলেছেন। তিনি দ্বীপটির কৌশলগত অবস্থান এবং খনিজ সম্পদের প্রাচুর্যের কথা উল্লেখ করে দাবি করেছেন।

ফ্রেডেরিকসেন বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি খুব স্পষ্ট ভাষায় কথা বলছি। ডেনমার্ক এবং তার অন্তর্গত দেশগুলো ন্যাটো সদস্য এবং জোটের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার আওতায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যা গ্রিনল্যান্ডে তাদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে, কিন্তু দেশের অধিকার বিক্রি বা হস্তান্তরের বিষয় নয়।” তিনি আরও বলেন, ডেনমার্ক আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারে ইতিমধ্যেই বিনিয়োগ বাড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছেন, একটি ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশের বিরুদ্ধে এবং আরেকটি দেশের জনগণের বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ করতে।

এদিকে, এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার, আর ডেনমার্ক সেটা করতে পারবে না।” ট্রাম্প তার বক্তব্যে আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা চালাবে এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো দেশটির জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত কেটি মিলারের পোস্টের জবাবে ট্রাম্প একটি বন্ধুসুলভ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক মিত্র দেশ এবং ডেনমার্ক তার ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রত্যাশা করে। তবে এই কূটনৈতিক উত্তেজনার পটভূমি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ এর আগের দিন, শনিবার (৩ জানুয়ারি), যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়। ওই অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ কেবল ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। মাদুরোর অপহরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান ইরানের প্রতি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হলে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। দ্বীপটির কৌশলগত অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে উচ্চপ্রযুক্তি খাতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিপুল মজুত রয়েছে। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই গ্রিনল্যান্ডের জন্য একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়েছে, যা ডেনমার্কে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ বসবাস করেন। ১৯৭৯ সাল থেকে অঞ্চলটি ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে, যদিও প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনো ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গ্রিনল্যান্ডবাসীর বেশিরভাগই ভবিষ্যতে পূর্ণ স্বাধীনতা চায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে প্রবল বিরোধ রয়েছে।

শেয়ার করুন