ইরান, লেবানন এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরকে লক্ষ্য করে একই সময়ে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি নিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-কে নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব। ইসরায়েলের বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
চ্যানেল ১২ জানায়, আইডিএফের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়া’য়াল জামির চার বছর মেয়াদি একটি সামরিক কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন। এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই একাধিক ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা অর্জনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা বাড়ানো, শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট ব্যবস্থায় আঘাত হানা এবং মহাকাশ থেকে ভূপৃষ্ঠে নির্ভুল হামলা চালানোর মতো কৌশলও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য এই সংঘাতের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে ইরানের দিকে। দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ থেকে জনগণের দৃষ্টি ঘোরাতে তেহরান সরকার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
এই আশঙ্কার কারণে ইসরায়েলের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের চলমান বিক্ষোভ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। এমনকি সংস্থাটি দাবি করেছে, ইরানে সংগঠিত আন্দোলনে তাদের ভূমিকা ছিল।
গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ইরানের এই বিক্ষোভ দমনে দেশটির ইসলামি সরকার ব্যাপক চাপে পড়েছে। বিভিন্ন সংঘর্ষে হতাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বর্তমান সরকারের পতন এবং ইসলামি বিপ্লব-পূর্ব রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিও তুলেছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ইসলামপন্থি সরকার ক্ষমতায় আসে।
এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কড়া অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সরকার যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানে যেতে পারে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে সম্পন্ন রয়েছে।





