মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সাত কলেজ ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৭ অগ্রগতি

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ এবং প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও অগ্রগতি ঘোষণা করেছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদের মাধ্যমে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

১. ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা ও অধ্যাদেশ প্রস্তুতি:
সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা, সময়মতো পরীক্ষা ও ফলাফল এবং প্রশাসনিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের খসড়া পরিমার্জনের মাধ্যমে চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পূর্ববর্তী পরামর্শ অনুযায়ী খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে।

২. মতামত গ্রহণ ও পর্যালোচনা:
২৪ সেপ্টেম্বর খসড়া অধ্যাদেশটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং পাঁচ হাজারেরও বেশি মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি মতামত আইনগত ও বাস্তবতার দিক থেকে পর্যালোচনা করে খসড়া পরিমার্জিত করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মাধ্যমে পর্যালোচনা সম্পন্ন হবে।

৩. অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়:
অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন, কলেজ অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন ও ক্লাস পরিচালনার বিষয়েও সভা করা হয়েছে।

৪. ভর্তি কার্যক্রম:
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান, বিজ্ঞান ও ব্যবসা শিক্ষা ইউনিটে মোট ১০,১৯৪ জন শিক্ষার্থীর আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯,৩৮৮ শিক্ষার্থীর ভর্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন ও পাঠদান পরিচালনার জন্য একটি অপারেশন ম্যানুয়েল অনুমোদন করা হয়েছে।

৫. ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি:
ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়েছে। অধ্যক্ষ ও শিক্ষক প্রতিনিধির সঙ্গে সভার মাধ্যমে শিক্ষকরা ক্লাস শুরুর নির্দেশনা পেয়েছেন। শীতকালীন ছুটির পর ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস শুরু করতে পারবেন।

৬. কলেজের স্বাতন্ত্র্য ও সম্পত্তি রক্ষা:
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, কলেজের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা, নারী শিক্ষার সুযোগ অক্ষুণ্ণ রাখা, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হওয়া নিশ্চিত করতে খসড়া অধ্যাদেশের পরিমার্জন বস্তুনিষ্ঠ ও বিধিবদ্ধভাবে করা হচ্ছে।

৭. উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও দায়িত্বশীল আচরণ:
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠাকে দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরা পেশাদারিত্ব বজায় রাখবেন এবং শিক্ষার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করবেন। মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হওয়ার জন্য সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।

শেয়ার করুন