গুম করে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের শুনানি শেষ হয়েছে। আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আগামী ৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
এর আগে নির্ধারিত দিনে আটক তিন আসামি ও সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। সকাল সোয়া ১০টার দিকে বাংলাদেশ প্রিজন ভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
এই তিন আসামি হলেন—পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তারা সবাই ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বিশেষ কারাগারে বন্দি ছিলেন।
এর আগে গত ২৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আজকের এই দিন নির্ধারণ করেন। জেআইসিতে গুমের মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী কারাগারে রয়েছেন।
শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম ও খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত ২২ অক্টোবর এই তিনজনসহ দুই মামলায় ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে তাদের ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সরকার ঘোষিত বিশেষ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের ঘটনায় গত ৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে সেদিন ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুমের অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তারেক সিদ্দিকীসহ ১৭ জন আসামি। জয়েন্ট ইন্টারোগেশন (জেআইসি) সেলে গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনা ও তারিক সিদ্দিকীসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই দুই মামলার মোট ৩০ জনের মধ্যে শেখ হাসিনা ও তারিক সিদ্দিকী উভয় মামলাতেই আসামি হওয়ায় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে। এদের মধ্যে ১৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং বাকিরা পলাতক রয়েছেন।





