শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন জেড আই খান পান্নার

জেড আই খান পান্না। ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না। মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি পৃথক মামলায় পলাতক শেখ হাসিনার পক্ষে লড়াইয়ের ঘোষণার পর নির্ধারিত দিনে আদালতে না যাওয়ায় তাকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ট্রাইব্যুনালে এসে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা চান।

তার ক্ষমা প্রার্থনার পর ট্রাইব্যুনাল তাকে শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করে।

আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় জেড আই খান পান্নাকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করেছিল ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু অভিযোগ গঠন শুনানির নির্ধারিত সময় বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় উপস্থিত না হওয়ায় তাকে তলব করা হয়। পরে তিনি দুপুরে হাজির হয়ে ক্ষমা চান এবং দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন।

এদিকে গত ২৩ নভেম্বর সকালে শেখ হাসিনার পক্ষে লড়তে আবেদন করেছিলেন তিনি। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল–১ তার আবেদন গৃহীত করে তাকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগও দিয়েছিল।

তবে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতি আস্থা নেই। তিনি আরও লেখেন—‘যে আদালতের প্রতি বঙ্গবন্ধুর কন্যার আস্থা নেই, সেখানে তার পক্ষে দাঁড়ানো নৈতিক নয়।’ এর মাধ্যমে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন।

আজ অভিযোগ গঠন শুনানিতে প্রথমে প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানির মাঝে ট্রাইব্যুনাল স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী জেড আই খান পান্নাকে ফোনে আদালতে আসার নির্দেশ দেয়। প্রায় ১০ মিনিট পর অন্যান্য আইনজীবীর সহায়তায় হুইলচেয়ারে করে তিনি আদালতে উপস্থিত হন।

এ সময় ট্রাইব্যুনাল তার অবস্থান জানার জন্য প্রসিকিউশনের বক্তব্য থামিয়ে তাকে কথা বলার সুযোগ দেয়। ট্রাইব্যুনাল জানতে চায়—‘আপনি শেখ হাসিনার পক্ষে নিযুক্ত। আদালতে কেন এলেন না? প্রয়োজনে শুনানি আবার হবে।’

জবাবে পান্না জানান, তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং মামলায় না দাঁড়ানোর বিষয়টি রেজিস্ট্রার দপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন।

ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করে—‘আপনার ক্লায়েন্ট হাজির নন, আপনিও আসেননি। অথচ আপনিই আইনজীবী হতে আবেদন করেছিলেন। মত বদলালে তা ট্রাইব্যুনালে এসে বলতে হয়। ভিডিও বার্তায় বলেছেন, আপনার ক্লায়েন্ট আদালত মানেন না, তাই আপনিও মানেন না—এ কথা কি বলা যায়?’

জেড আই খান পান্না জবাব দেন, ‘আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাই।’

এরপর তাকে আবারও জিজ্ঞেস করা হয় তিনি দায়িত্ব পালন করবেন কি না। তিনি ‘না’ বলেন। ট্রাইব্যুনাল তখন তার জায়গায় কাকে নিয়োগ দেওয়া যায় সে বিষয়ে মতামত জানতে চায়। তিনি কোনো নাম প্রস্তাব না করায় মো. আমির হোসেনকে নতুন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তিনিও পূর্বে শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

শেয়ার করুন