টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এবার শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে স্পেনের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা। আর সেই ম্যাচকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন লিওনেল মেসি, যিনি ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি বিরল কীর্তির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
ফাইনালে ওঠার মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে তিনটি ফাইনালে খেলা দ্বিতীয় ফুটবলার হতে যাচ্ছেন। এর আগে এই অনন্য রেকর্ড গড়েছিলেন শুধু ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার কাফু।
কাফুর বিশ্বকাপ ফাইনাল যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে। ইতালির বিপক্ষে সেই ফাইনালে তিনি শুরুতে বেঞ্চে থাকলেও জর্জিনিয়োর ইনজুরির কারণে মাঠে নামার সুযোগ পান। পরে টাইব্রেকারে জয় পেয়ে ব্রাজিলের চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের সাক্ষী হন তিনি।
চার বছর পর ফ্রান্স বিশ্বকাপে আবারও ফাইনালে ওঠে ব্রাজিল। তবে জিনেদিন জিদানের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় কাফুদের।
২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে ব্রাজিলকে নেতৃত্ব দেন কাফু। জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের পর ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার রেকর্ড গড়েন তিনি। আজও সেই রেকর্ড অক্ষত রয়েছে।
এবার সেই তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপ তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও গিয়ের্মো ওচোয়ার মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ অংশগ্রহণের রেকর্ড।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেক হওয়া মেসি দুই দশক পরও আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের অন্যতম প্রধান তারকা। তবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে তাকে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে।
তার প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল ছিল ২০১৪ সালে জার্মানির বিপক্ষে। অতিরিক্ত সময়ে মারিও গোটজের গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা।
অবশেষে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে স্বপ্নপূরণ হয় মেসির। ফ্রান্সের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে স্মরণীয় দ্বৈরথের পর টাইব্রেকারে জিতে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে আর্জেন্টিনা।
এবার স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছেন নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে। ফল যাই হোক না কেন, তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার মাধ্যমে মেসি ইতোমধ্যেই ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে ফেলেছেন।
বিশ্বকাপের তিনটি ফাইনালে উপস্থিত থাকার তালিকায় রোনালদো নাজারিও, পেলে, লোথার ম্যাথাউস ও পিয়েরে লিটবারস্কির মতো কিংবদন্তিরাও রয়েছেন। তবে তাদের ক্ষেত্রে অন্তত একটি ফাইনালে তারা মাঠে নামতে পারেননি—কখনো বয়সের কারণে, কখনো ইনজুরির কারণে। সেই কারণেই কাফুর রেকর্ড এতদিন অধরাই ছিল। আর এবার সেই অনন্য কীর্তিতে ভাগ বসাতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি।





