আব্দুর রহিম রানা, যশোর প্রতিনিধি :
যশোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ২৬৫ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার হয়েছে। এ সময় মদ বহনকারী প্রাইভেট কারসহ আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ৯ নভেম্বর রাত সাড়ে দশটার দিকে যশোর–খুলনা মহাসড়কের বসুন্দিয়া ঘুনি রেলগেট এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
জানা যায়, ৯ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টার কিছু পরে যমুনা ফিড কারখানার উত্তর পাশে সন্দেহজনকভাবে থেমে থাকা একটি টয়োটা প্রাইভেট কার নজরে আসে কর্মকর্তাদের। সন্দেহজনক ভাবে গাড়িটি তল্লাশি কালে গাড়ির অভ্যন্তরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন খোপ থেকে বেরিয়ে আসে ২৬৫ বোতল বিদেশি মদের বিশাল চালান। ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানার গোলাপ নগর এলাকার যুবক আব্দুর রাজ্জাককে।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তঘেঁষা এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি মাদক সরবরাহ চক্রের গতিবিধি নিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি ছিল কয়েক সপ্তাহ ধরে। মহাসড়কের নির্জন এ অংশটি চক্রটির জন্য নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। রাতের অন্ধকারে দ্রুত আসা–যাওয়া করা কিছু গাড়ির গতিবিধি সন্দেহের জন্ম দেয়। ওই রাতেও রাজ্জাকের গাড়িটি একই ধাঁচে থেমে থাকায় অভিযানকারী দল নিশ্চিত হয়ে পড়ে যে বড় ধরনের পরিবহন চলছে। তল্লাশিতে মদের বোতলগুলো একাধিক গোপন বক্সে এমনভাবে সাজানো ছিল যাতে বাহ্যিকভাবে বোঝার কোনো উপায় না থাকে।
গ্রেফতার যুবককে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সীমান্তবর্তী একটি স্থান থেকে মদ সংগ্রহ করে বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেওয়া ছিল তার কাজ। তিনি একটি সংগঠিত চক্রের নির্দেশে নির্দিষ্ট রুটে নিয়মিত আসা–যাওয়া করতেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট, গাড়ির আগের ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের যোগাযোগসমূহ বিশ্লেষণ করছেন। তাদের ধারণা, রাজ্জাক সরবরাহ চক্রের কেবল বাহক; পেছনে বড় সংগঠকরা সক্রিয় রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রেলগেটসংলগ্ন ওই স্থানটি রাতে অনেকটাই নির্জন থাকে, ফলে অপরাধীরা সহজেই এটি ব্যবহার করত। বেশ কিছুদিন ধরে কয়েকটি নির্দিষ্ট গাড়ির অস্বাভাবিক উপস্থিতি তারা দেখলেও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। অভিযানের পর এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে বলে তারা জানান।
পরিদর্শক নাজমুল হোসেন খান বাদী হয়ে আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কোতয়ালী মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। তিনি জানান, এই চক্রটির পেছনে আরও কয়েকজন মূল হোতা রয়েছে, তাদের গ্রেফতারের জন্য আলাদা তদন্ত টিম কাজ করছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আসলাম হোসেন বলেন, গত দুই মাসে জেলাজুড়ে অন্তত ১৭টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি বড় চালান আটক করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, পাচারকারীরা রুট পরিবর্তন করে প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল নিচ্ছে, তবে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও প্রশাসনের সমন্বিত তৎপরতার ফলে তাদের বেশিরভাগ পরিকল্পনাই ভেস্তে যাচ্ছে। জনগণকে সন্দেহজনক চলাচল দেখলে দ্রুত তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মাদককে শিকড়সহ নির্মূল করার জন্য শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি। আগামী মাস থেকে যশোর জেলার ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।





