সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা

৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা

জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দেশের সব শপিংমল এবং দোকানপাট বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এ সময় দোকান মালিকরা সকাল ৯টার পরিবর্তে বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার দাবি জানান। বৈশ্বিক কারণে আগামী তিন মাস সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অনুরোধ জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী।

শনিবার দুপুরে বিদ্যুৎ ভবনে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করার ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। সেখানে বিদ্যুৎমন্ত্রী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম উপস্থিত ছিলেন। সভায় রাজধানী ছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দোকান মালিক সমিতির নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, বেশির ভাগ মানুষ সন্ধ্যার পর শপিং করতে আসেন। তাই সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে বেলা ১১ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট এবং মার্কেট ও শপিংমল খোলা রাখার অনুমতি দিলে দেশের অর্থনীতি বাঁচবে। নতুবা অনেক দোকান লাটে উঠবে এবং ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

ব্যবসায়ীদের এই সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ব্যস্ততার কারণে তারা আসেননি।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন সভায় জানান, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। দোকানিদের ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। সামনে পহেলা বৈশাখ এবং কোরবানির ঈদ। এই সময়ে শপিংমল এবং মার্কেটগুলো ব্যবসা করতে না পারলে প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হবে। বৈঠকে দোকান মালিক সমিতি ১০ দফা দাবি তুলে ধরে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে-অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ, যানজট নিরসন করা। এটা করা গেলে জ্বালানি সাশ্রয় হবে। সরকারি-বেসরকারি গাড়ি চলাচল (মোটরসাইকেলসহ) অর্ধেকে নামিয়ে আনা। এজন্য একদিন জোড় গাড়ি এবং অন্যদিন বেজোড় গাড়ি চলতে দেওয়ার নিয়ম করা। ব্যাটারিচালিত তিন চাকার গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহণ বাড়ানো। ব্যবসায়ীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ভোক্তা অধিকার আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধ করা। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আচরণ শালীন এবং আইনসম্মত করার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

বৈঠকে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশ এখন জ্বালানি সংকটে পড়েছে। এই সময়ে তীব্র গরম পড়ছে। অন্যদিকে ইরি-বোরো মৌসুম চলছে। কৃষকদের বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি তেল দিতে হবে। এটি সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ কমাতে হচ্ছে। কারণ বন্ধ কয়েকটি সার কারখানা খুলতে হবে। বিশ্ববাজারে সার আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সবাইকে লোডশেডিংয়ের কষ্ট মেনে নিতে হবে। তবে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করে দিলে লোডশেডিং অনেক কমে আসবে। তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে সবাইকে সন্ধ্যা ৬টায় দোকানপাট বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান।

শেয়ার করুন