ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তান সরে গেলে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে সম্প্রচারকারীরা। এমন মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলী। তিনি বলেন, পাকিস্তান না খেললে পুরো টুর্নামেন্টই বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে নেয়। এই ঘটনার পর পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে খেলা না খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
এই পরিস্থিতিতে বাসিত আলী কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। একটি ইউটিউব অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে না খেলে, তাহলে সম্প্রচারকারীরা রাস্তায় বসবে, দেউলিয়া হয়ে যাবে। পাকিস্তান সরে গেলে কে তাদের জায়গায় খেলবে? ভারত যদি বিকল্প কোনো দলের বিপক্ষে খেলে, তাহলে কি সেই ম্যাচ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মতো দর্শক টানবে?’
তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বিপুল দর্শক ও আয়। সেই ম্যাচ না হলে সম্প্রচারকারীরা বড় লোকসানে পড়বে। বাসিত আলী মহসিন নাকভির সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনের কথাও প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, ‘মহসিন নাকভি সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছেন, তাতে তিনি পুরো দুনিয়া কাঁপিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকারকে জিজ্ঞেস করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই কথাগুলো আইসিসির জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের উচিত সরাসরি বয়কট না করা। আমাদের তো ভারতে খেলতেই হচ্ছে না। কিন্তু যদি সরকার বলে, বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে হবে, তখন কী হবে?’
এদিকে পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করলে কঠোর শাস্তির ইঙ্গিত দিয়েছে আইসিসি। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নিলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের অবস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সব অনিশ্চয়তার মাঝেই পাকিস্তান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত দলে নেই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও হারিস রউফ। তবে দল ঘোষণার পরও বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনো সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।





