লিভারপুল তারকা মোহামেদ সালাহর জন্য গেল সপ্তাহটি ছিল টানাপোড়েন আর অনিশ্চয়তায় ভরা। এক পর্যায়ে দল থেকে বাদ পড়া এবং পরবর্তী সময়ে একটি সাক্ষাৎকারে খোলামেলা মন্তব্য—সব মিলিয়ে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, ইংলিশ ক্লাবটিতে তার সময় বোধহয় শেষের পথে। নানা জল্পনার মধ্যেই সালাহকে ঘিরে তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি।
তবে সব আলোচনা ও দ্বন্দ্বকে পেছনে ফেলে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের বিপক্ষে গত রাতের ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি। আর নামার সঙ্গেই গড়ে তোলেন নতুন ইতিহাস। ওয়েইন রুনির আট বছর পুরোনো একটি রেকর্ড ভেঙে দেন সালাহ। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের রাতে লিভারপুলও ২–০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
এর আগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে তাকে একাদশে না রাখায় প্রশ্ন উঠেছিল তার ভবিষ্যৎ নিয়ে। কিন্তু ব্রাইটনের বিপক্ষে খেলেই সালাহ বুঝিয়ে দেন, কেন তিনি এখনও দলের অন্যতম ভরসা। ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিভর্তি দর্শক দাঁড়িয়ে তাকে অভিনন্দন জানান, যা তার প্রতি সমর্থকদের ভালোবাসারই প্রমাণ।
রেকর্ড গড়ার আগেই অবশ্য ম্যাচে এগিয়ে যায় লিভারপুল। খেলার একেবারে শুরুতেই গোল করে দলকে লিড এনে দেন হুগো একিতিকে। দ্বিতীয়ার্ধে নিজের দ্বিতীয় গোলের সুযোগ তৈরি করেন তিনি, আর সেই গোলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল সালাহর। তার নিখুঁত অ্যাসিস্টেই ব্যবধান বাড়ায় অল রেডরা।
এই সহায়তার মাধ্যমেই প্রিমিয়ার লিগে এক ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ গোল অবদানের নতুন রেকর্ড গড়েন সালাহ। লিভারপুলের জার্সিতে তার মোট গোল অবদান দাঁড়িয়েছে ২৭৭টিতে। এর মধ্যে রয়েছে ১৮৮টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করানো ৮৯টি গোল।
এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল ওয়েইন রুনির দখলে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে তার মোট গোল অবদান ছিল ২৭৬টি। তবে সময়ের বিচারে সালাহ এখানে অনেকটাই এগিয়ে। রুনি যেখানে ১৩ মৌসুমে এই কীর্তি গড়েছিলেন, সেখানে মাত্র আট মৌসুমেই সেই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেছেন মিসরীয় ফরোয়ার্ড।
ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ করেই আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে অংশ নিতে মিসর জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার কথা সালাহর। এই টুর্নামেন্ট চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে প্রতিযোগিতা শেষে তাকে আবার লিভারপুলের জার্সিতে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
এই শঙ্কার কারণ, লিডসের বিপক্ষে ড্র ম্যাচের পর সালাহ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচটিই হয়তো তার শেষ উপস্থিতি হতে পারে। সে সময় তিনি জানান, পরিবারকে ওই ম্যাচে আসতে বলেছিলেন এবং খেলুন বা না খেলুন, অ্যানফিল্ডে দর্শকদের সঙ্গে বিদায় মুহূর্ত উপভোগ করতে চেয়েছিলেন। এরপর আফ্রিকা কাপ খেলতে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে কী অপেক্ষা করছে, তা তিনি নিজেও জানেন না।





