মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ব্রাজিলের বাড়ছে হেক্সার স্বপ্ন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের ড্র সম্পন্ন হওয়ার পর ব্রাজিলের ভাগ্যচিত্র এখন স্পষ্ট। গত ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক ড্র অনুযায়ী পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা পড়েছে গ্রুপ ‘সি’-তে। এই গ্রুপে ব্রাজিলের সঙ্গী হয়েছে মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতি। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রুপ বিন্যাস দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে ব্রাজিলের সামনে বহু কাঙ্ক্ষিত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে আরও জোরালো করে তুলছে।

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড গড়ে ব্রাজিল ১৯৩০ সাল থেকে অনুষ্ঠিত প্রতিটি বিশ্বকাপেই অংশ নিয়ে আসছে। যদিও এবারের আসরের আগে কনমেবল অঞ্চলের বাছাইপর্বে তাদের পথচলা খুব একটা মসৃণ ছিল না। ১৮ ম্যাচ শেষে ৮টি জয়, ৪টি ড্র ও ৬টি পরাজয়ে তারা পঞ্চম অবস্থানে থেকে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা হচ্ছে আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কোকে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠে সবাইকে চমকে দেওয়া মরক্কো এবারও দুর্দান্ত ছন্দে এসেছে। তারা বাছাইপর্বে প্রতিটি ম্যাচ জিতে শিরোপার দাবিদারদের দলে নিজেদের জায়গা পোক্ত করেছে। শক্তিশালী শরীরী ফুটবল, শৃঙ্খলিত রক্ষণ ও দ্রুত গঠিত প্রতিআক্রমণ ব্রাজিলের আক্রমণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

স্কটল্যান্ড দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে। প্লে-অফের কঠিন বাধা পেরিয়ে তারা ২০২৬-এর টিকিট নিশ্চিত করেছে। দলটি বরাবরই রক্ষণে সংগঠিত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ফুটবল খেলে থাকে। এবারের স্কটিশ স্কোয়াড আগের তুলনায় বেশ অভিজ্ঞ হওয়ায় যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্যই তারা অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

গ্রুপের চতুর্থ দল হাইতি। মধ্য আমেরিকার বাছাইপর্বে কোস্টারিকা ও হন্ডুরাসকে পেছনে ফেলে শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়ে তারা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। দ্রুতগতির আক্রমণ ও প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করার ক্ষমতাই তাদের প্রধান অস্ত্র। এটি তাদের মাত্র দ্বিতীয় বিশ্বকাপ হলেও অঘটন ঘটানোর সামর্থ্য যে তাদের রয়েছে, তা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কার্লো আনচেলত্তির হাত ধরে নতুন করে আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেয়েছে ব্রাজিল। ২০২৫ সালের মে মাসে দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতালিয়ান এই কোচের অধীনে আটটি ম্যাচ খেলেছে সেলেসাওরা। এর মধ্যে চারটিতে জয়, দুটিতে ড্র এবং দুটিতে হার এসেছে তাদের ঝুলিতে। দলের পারফরম্যান্সে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার ছাপ দেখা যাচ্ছে।

তবে ব্রাজিলকে সবচেয়ে বেশি আশা দেখাচ্ছে একটি কাকতালীয় কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাস। গত দুটি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন—ফ্রান্স (২০১৮) ও আর্জেন্টিনা (২০২২)—দুটো দলই গ্রুপ ‘সি’ থেকেই শিরোপা জিতেছিল। শুধু তাই নয়, ব্রাজিল নিজেদের সর্বশেষ বিশ্বজয় ২০০২ সালেও খেলেছিল এই একই গ্রুপে। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আভাস অনেককেই আশাবাদী করে তুলছে।

বিশ্বকাপ জয়ের জন্য মাঠের পারফরম্যান্স, কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তার পাশাপাশি ভাগ্যের সহায়তাও বড় ভূমিকা রাখে। গ্রুপ পর্বের এই কাকতালীয় মিল তাই ব্রাজিলকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে—হেক্সার পথে এবার হয়তো বাধা কমই থাকবে।

শেয়ার করুন