প্রায় আড়াই বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে নিজেদের ঘর ক্যাম্প ন্যুতে ফিরে এলো বার্সেলোনা। শনিবারের ম্যাচটি তাই হয়ে উঠেছিল উৎসবমুখর। অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে লা লিগা টেবিলে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষস্থান দখল করেছে কাতালানরা।
স্টেডিয়াম সংস্কারের কাজ আগেই শেষ হওয়ার অনুমান ছিল, তবে নির্মাণজনিত দেরি ও নানা জটিলতায় সময় আরও লেগে যায়। প্রায় ৪৫ হাজার সিট প্রস্তুত থাকায় সীমিত দর্শক নিয়েই মাঠে গড়ায় ম্যাচ। টিকিটের দাম বেশি হলেও সমর্থকদের উচ্ছ্বাস কমেনি—খোলা তিন স্ট্যান্ডের একটিও আসন খালি ছিল না। ক্লাবের ধারণা, ২০২৬ সালের মধ্যে আরও সেকশন খুলে যাবে এবং পরের মৌসুমে আবার পূর্ণ ১ লাখ ৫ হাজার সিটই ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
ক্যাম্প ন্যুতে ফেরা যেমন বড় খবর, তেমনি কোচ হানসি ফ্লিকের জন্য আরও আনন্দের বিষয় ছিল গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়ার ফিরে আসা। আগের নয়টি ম্যাচে চোটের কারণে বাইরে থাকা গার্সিয়া ফিরেই সেপ্টেম্বরের পর প্রথম ক্লিনশিট নিশ্চিত করেন। ম্যাচের শেষ দিকে দীর্ঘদিনের ইনজুরি কাটিয়ে রাফিনিয়াও মাঠে নামেন।
ম্যাচের শুরুতেই আসে স্টেডিয়ামের নতুন রূপে প্রথম গোলটি। চতুর্থ মিনিটে এরিক গার্সিয়ার পাস ধরে অধিনায়ক রবার্ট লেভানডভস্কি নিচু শক্তিশালী শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন। বল সিমনের হাতে লাগলেও থামাতে পারেননি। ইনজুরিতে ভরা মৌসুমে এটি ছিল তাঁর লিগের অষ্টম গোল।
১০ মিনিটে দর্শকরা ঐতিহ্য বজায় রেখে গেয়ে ওঠেন ‘লিওনেল মেসি’-র নাম। নতুন অধ্যায়ের মাঝেও ক্লাবের সোনালি অতীত সমর্থকদের মন থেকে যায়নি। অন্যদিকে, নিকো উইলিয়ামস বার্সায় না আসায় গ্যালারি থেকে তাঁকে বেশ কয়েকবার দুয়ো দেওয়া হয়।
প্রথমার্ধে ফেরমিন লোপেজের শট সিমন ফিরিয়ে দেন এবং দানি অলমোর নেওয়া প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বিলবাও মাঝেমধ্যে আক্রমণ গড়লেও বড় কোনো সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি।
বিরতির আগ মুহূর্তে বার্সা স্কোর দ্বিগুণ করে। লামিন ইয়ামাল দুর্দান্ত ফুটওয়ার্কে বাম পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে চমৎকার পাস বাড়ান ফেরান তোরেসকে। তাঁর নেওয়া শট সিমন আড়াল করতে ব্যর্থ হলে স্কোর হয় ২-০।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবারও উচ্চচাপে বল কেড়ে নেন এরিক গার্সিয়া। তাঁর তৈরি করা আক্রমণ থেকেই লোপেজ নিখুঁত ফিনিশিংয়ে তৃতীয় গোলটি করেন। কিছুক্ষণ পর লোপেজকে ফাউল করার ঘটনাটি ভিএআর দেখে লাল কার্ড দেখানো হয় বাইহান সানচেতকে।
পরবর্তী সময়ে জোয়ান গার্সিয়া দানি ভিভিয়ানের শক্তিশালী হেড সেভ করে দারুণ দক্ষতার পরিচয় দেন। তারপর মাঠে নামানো হয় রাফিনিয়াকে—নেমেই তিনি একটি শট নেন, যা বাইরে চলে যায়।
শেষদিকে ইয়ামাল আবারও জাদুর ছোঁয়া দেন। তাঁর নিখুঁত পাস ধরে তোরেস শীতল মাথায় গোলদ্বার খুঁজে নেন এবং ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল সম্পন্ন করেন। ঘরে ফেরার ম্যাচ তাই শেষ হয় আনন্দ, উল্লাস আর চার গোলের দারুণ উদযাপনে।





