বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুষ্ঠু নির্বাচন ও বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে জামায়াতসহ ৮ দলের সঙ্গে নির্বাচন করবো: নাহিদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে গৃহীত এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আগামীকাল প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য ও বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে জামায়াতসহ সমমনা আট দলের সঙ্গে আমরা নির্বাচনে অংশ নেব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামীকাল (২৯ ডিসেম্বর) চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার চক্রান্ত চলছে। এই জুলাই প্রজন্মকে নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্য তারা চক্রান্ত করছে। সেদিন ওসমান হাদির গায়ে গুলি লেগেছে। কালকে আপনার গায়ে লাগবে, পরশুদিন আমার গায়ে লাগবে। কারণ প্রথম এবং প্রধান টার্গেট করা হচ্ছে এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা অংশগ্রহণ করেছে।”

তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য, প্রতিযোগিতাপূর্ণ করার জন্য এবং আধিপত্যবাদী কোনো শক্তি আমাদের এই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অগ্রযাত্রাকে যাতে ঠেকাতে না পারে সেজন্য আমাদের বৃহত্তর ঐক্য প্রয়োজন।” এই প্রেক্ষাপটেই জামায়াত ইসলামী ও তাদের সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনি সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানান তিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে অংশ নেওয়ার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা করে যাচ্ছিল। আমরা সে বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি।”

নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রাথমিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “এনসিপির পক্ষ থেকে আমরা প্রথম থেকে বলে এসেছি যে, আমরা আসন্ন এই নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণ করতে চাই। আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে চাই।” সে অনুযায়ী সারা দেশ থেকে মনোনয়ন আহ্বান করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “শরিফ ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনেক বেশি পরিবর্তন হয়েছে।” এ ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, “বাংলাদেশে আধিপত্যবাদী আগ্রাসী শক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে।”

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলের জোটকে নির্বাচনি জোট উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এটি নির্বাচনি সমঝোতা জোট।” তিনি জানান, সংস্কার, বিচার, দুর্নীতিবিরোধী ও আধিপত্যবাদবিরোধী ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতেই এই ঐক্য গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, “আমরা আগামীকাল (২৯ ডিসেম্বর) আমাদের প্রার্থীর বিষয়টা আছে, সেটা আমরা চূড়ান্তভাবে ঘোষণা দেব।” সমঝোতার আওতায় যেসব প্রার্থী চূড়ান্ত হবেন, তারাই মনোনয়নপত্র জমা দেবেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন