আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহুল আলোচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পাননি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার বিষয়টি আগেই বিএনপির হাইকমান্ডকে জানিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
বুধবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার একটি রেস্তোরাঁয় নিজের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপি থেকে পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “এখনো আমি এটা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। আমি আমার নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলব। তারা যদি বলে তাহলে আমি সেই পথে (পদত্যাগ) যাব। তবে নির্বাচন আমি করব।”
ওই দিন তিনি আরও বলেন, “এতো বড় দল (বিএনপি) তাদের ভালো-মন্দ দেখতে হয়। যেহেতু জমিয়তে উলামায়ের সঙ্গে তারা জোট করেছে আসন না দিলে কেমন করে জোট হবে! দল বাধ্য হয়ে তাদের আসন দিয়েছে।”
দলের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে বহিষ্কার করা হবে, বিএনপির এমন বার্তা সম্পর্কে রুমিন ফারহানা সেদিন বলেছিলেন, “যদি ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার হয় দল অবশ্যই ব্যবস্থা নিবে। আমি তো বাধা দিতে পারব না। তবে মনোনয়ন কেনার আগেই সম্মানের সঙ্গে দল থেকে পদত্যাগ করব।”
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, “আমার শক্তি এবং সাহসের উৎস এলাকার মানুষ, ভোটার, আর কর্মী সমর্থকরা। তাই এলাকার মানুষ যেটা চাইবেন সেটাই আমার সিদ্ধান্ত। আমি এই সিদ্ধান্ত (স্বতন্ত্র প্রার্থী) নেওয়ার আগে সবার সঙ্গে বসেছি। আমি তাদেরকে বলেছি আপনারা যা বলবেন আমি সেটাই করব। তারা বলেছেন- আপনি নির্বাচন না করলে আমরা অভিভাবকশূন্য হয়ে যাচ্ছি। সেখান থেকে আমার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তটা আমার নেতাকর্মীদের, আমার একক সিদ্ধান্ত নয়।”
তিনি আরও বলেন, “দল থেকে মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার বিষয়টি আমি আগেই দলকে জানিয়েছি। তাই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত লুকোচুরি বা হঠাৎ সিদ্ধান্ত- এ রকম নয়। মূলত তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই আমি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আমার দলকেও এটা জানিয়ে দিয়েছি। দল দলের মতো করে তাদের সিদ্ধান্ত নেবে, আমি আমার সিদ্ধান্ত আমার মতো করে নেব।”
প্রসঙ্গত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বুধবার দুপুরে রুমিন ফারহানার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সরাইল উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেন। রুমিন ফারহানার প্রত্যাশিত এ আসনটি শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জন্য ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।





