শনিবার, ২ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শরিকদের আরও ৮ আসন ছাড়ল বিএনপি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে চারটি আসনে ছাড় দেওয়ার পর শরিক দলগুলোর মধ্যে আরও আটটি আসন বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব আসনে শরিক দলগুলোর প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এলডিপি থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ড. রেদোয়ান আহমেদ কুমিল্লা-৭ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা মোস্তফা জামান হায়দার পিরোজপুর-১, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩, একই দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ঝিনাইদহ-২, বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি রশিদ যশোর-৫ এবং এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব আসন শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেখানে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না। কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শরিকদের সঙ্গে যেসব আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত হবে, সেসব আসনে বিএনপি প্রার্থী দেবে না। সমঝোতার আওতায় নির্ধারিত আসন ছাড়া শরিক দলগুলো অন্য কোনো আসনে প্রার্থী দিতে পারবে না—এই শর্তেই আসন বণ্টন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করাকে দলটি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান শাদাহাৎ হোসেন সেলিম নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। পরে তাকে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাও নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে তার প্রার্থিতার বিষয়ে বিএনপি ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) একই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব জানান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার ভিত্তিতে চারটি আসনে বিএনপি প্রার্থী দেবে না।

জমিয়তের প্রার্থীরা হলেন—নীলফামারী-১ আসনে মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনির হোসাইন কাসেমী, সিলেট-৫ আসনে মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জুনায়েদ আল হাবীব।

৩০০ আসনের সংসদে বিএনপি ইতোমধ্যে দুই দফায় ২৭২ আসনে দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। অবশিষ্ট ২৮ আসনের মধ্যে জমিয়তের সঙ্গে চারটি আসনে সমঝোতা হয়েছে আগেই। সর্বশেষ শরিকদের জন্য আরও আটটি আসন ছাড় দেওয়ায় এখনো ১৬টি আসন বণ্টন বাকি রয়েছে।

শেয়ার করুন