বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দাড়ি-টুপিকে রাজাকারের প্রতীক বানানো অপশক্তিকে রুখে দাঁড়ানোর অহ্বান : হেফাজত

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আবারও পরিকল্পিতভাবে ঘৃণার রাজনীতি উসকে দেওয়া হচ্ছে। ইসলামের বিধান এবং মুসলমানদের পরিচয়ের অংশ দাড়ি ও টুপিকে ‘রাজাকার’ পরিচয়ের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে। যারা জাতিকে বিভক্ত করার এই অপচেষ্টায় লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। তার অভিযোগ, পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে মুসলমানদের পরিচয় ও ধর্মীয় চিহ্নকে টার্গেট করে ইসলামবিরোধী রাজনীতি চালানো হয়েছিল।

মাওলানা আজিজুল হক আরও বলেন, জুলাইয়ের বিপ্লবীরা শান্তি, সহাবস্থান ও সৌহার্দ্যের পথ বেছে নেওয়ার সুযোগে হিন্দুত্ববাদী অপশক্তি এবং বাম ঘরানার কিছু সেকুলার গোষ্ঠী নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি বলেন, জাতির মনে রাখা উচিত ‘রাজাকার’ তকমাভিত্তিক বয়ান ভেঙে পড়ার কারণেই ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন ঘটেছিল। ভারতকেন্দ্রিক বয়ানের নামে প্রচারিত মুক্তিযুদ্ধের ব্যাখ্যাকে জুলাইয়ের নতুন প্রজন্ম প্রত্যাখ্যান করেছে। একাত্তরের মহান জনযুদ্ধকে যারা আধিপত্যবাদী শক্তির হাতে তুলে দিয়েছিল, তারা ক্ষমতার লোভে নিজেদের জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সেই কারণেই আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব বাংলাদেশের বিজয় দিবসকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করার সাহস পাচ্ছে। অথচ একাত্তরের রক্তাক্ত সংগ্রাম ও বিজয় একান্তভাবেই বাংলাদেশের জনগণের অর্জন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতীয় বয়ানের আলোকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’-এর যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা মূলত ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদকে টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার। এ বয়ান একাত্তরকে প্রশ্নাতীত করে তুলে ইতিহাসচর্চাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এমন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বিতর্কিত তথ্য বা পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন তোলাকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। তিনি বলেন, একাত্তরের জনযুদ্ধ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সাতচল্লিশের উত্তরাধিকার একাত্তর, আর একাত্তরের ধারাবাহিকতা চব্বিশ। সাতচল্লিশ, একাত্তর ও চব্বিশ এই তিনটি অধ্যায়ই আমাদের স্বাধীনতার অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা। কোনোটিকেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এখন সময় এসেছে সত্য ও নিরপেক্ষ ইতিহাস চর্চার পথে এগিয়ে যাওয়ার।

শেয়ার করুন