গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন— এই তিনটি বিষয়ই বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জাতীয় স্বার্থ। তিনি বলেন, যারা এখন সংস্কার ও নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইবে, তারা দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিচার ও সংস্কারের পথরেখা সফল করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় জোনায়েদ সাকি অভিযোগ করে বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি গুপ্ত হামলার মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। প্রকাশ্য দিবালোকে ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে যারা অবহেলা করছেন, তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। যারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তাদের কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে এবং বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, বিজয় দিবসের এই দিনে শহীদদের রক্তের ঋণ আমাদের বহন করতে হবে। বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন— এই তিনটি লক্ষ্য সফল করাই ছিল শহীদদের আকাঙ্ক্ষা। যেমন আমরা হত্যাকারীদের বিচার চাই, তেমনি রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সেই লক্ষ্য অর্জনে নির্বাচন অপরিহার্য।
তিনি অভিযোগ করেন, পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি দেশি-বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের সহায়তায় গণঅভ্যুত্থানের অর্জন ব্যর্থ করতে চাচ্ছে। শুধু তাই নয়, কিছু রাজনৈতিক মহলও নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা বলেন, অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে ন্যূনতম ঐকমত্য বজায় রাখতে পারলে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হবে। অন্যথায় বিভক্তির সুযোগ নিয়ে অভ্যুত্থানের অর্জন নস্যাৎ করার আশঙ্কা রয়েছে।





