মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জামায়াতে যোগদানের ব্যাখ্যা দিলেন আখতারুজ্জামান

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। নতুন দলে যুক্ত হয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো দেশদ্রোহী দল নয়, বরং এটি একটি দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তি।

শনিবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এক সময় জামায়াতের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই মুক্তিযোদ্ধা সেদিন প্রাথমিক সহযোগী সদস্যের ফরম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন। একই সঙ্গে জামায়াতে যোগ দেওয়ার পেছনের কারণও তুলে ধরেন তিনি।

আখতারুজ্জামান বলেন, “বিএনপির কথার ঠিক নেই। উনি (তারেক রহমান) বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে’। কথাটা সঠিক নয়। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে, জামায়াতের বিরুদ্ধে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। আপনি একের পর এক মিথ্যা বলে যাবেন। এর প্রতিবাদে আমি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছি। কারণ জামায়াত তো দেশদ্রোহী কোনো দল নয়; জামায়াতে ইসলামী একটি দেশপ্রেমিক দল। জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে এবং তাদের যে গঠনতন্ত্র আছে, সেখানেও এটা স্পষ্টভাবে লেখা আছে।”

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক সঙ্গী না করার জন্য তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সে সময় তার বক্তব্য গুরুত্ব পায়নি। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তারা আবার জোট গড়ে সরকারও গঠন করে—এ বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

গত দেড় দশকে জামায়াত সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে উল্লেখ করে আখতারুজ্জামান বলেন, “গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের রোষানলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে জামায়াত। তাদের নেতাদের ফাঁসিতেও ঝুলিয়েছেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির মতো জামায়াতও মামলা, হামলা ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “৫ অগাস্টের পরে এখন যেখানে ফ্যাসিস্ট বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে চলার কথা, ঐক্যের রাজনীতি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা; সেখানে দেখা গেল—বিভক্তির রাজনীতির সূচনা করল বিএনপি।”

বিএনপি থেকে সদ্য জামায়াতে যোগ দেওয়া এই নেতা বলেন, “বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছে, ভালো কথা। আমিও তো মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু আমরা তো একাত্তর সালে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি, জামায়াতের সঙ্গে তো নয়। তা হলে এখন এসব নিয়ে কেন ঝগড়াঝাঁটি। আমার প্রশ্ন, আপনি (বিএনপি) কাদের স্বার্থে এখন জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন?”

ক্ষমতার রাজনীতির সমালোচনা করে আখতারুজ্জামান বলেন, “ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিএনপির নেতারা এতো পাগল হয়ে যান কেন, আমি তা বুঝতে পারি না।”

উল্লেখ্য, সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ৩ নম্বর সেক্টরে মেজর কে এম শফিউল্লাহর অধীনে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেন।

শেয়ার করুন