শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

“দুই বাংলা আবার এক হবে”,বিজেপি সাংসদের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা

রানাঘাটের বিজেপি সংসদ সদস্য জগন্নাথ সরকারের এক ভুলভাল মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলকে উত্তেজনার আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে। ৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নদীয়ার মাটিয়ারি বানপুরে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “কথা দিচ্ছি, এবারের ভোটে আমরা জিতলে বাংলাদেশের সঙ্গে কাঁটাতার আর থাকবে না। একসময় দুই বাংলা ছিল, এবার আবার এক হয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল জিতলেও কাঁটাতার থাকবে না, তবে ওই দেশটি বাংলাদেশই থেকে যাবে।” এই কয়েকটি বাক্যই কার্যত রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে সীমান্ত থেকে রাজ্যের রাজধানী পর্যন্ত।

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই মন্তব্য বিজেপি শিবিরের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। কারণ, অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়গুলোই দীর্ঘদিন ধরে গেরুয়া শিবিরের রাজনৈতিক কর্মসূচির মূল ভিত্তি। কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপি নেতারা বারবার অভিযোগ তুলেছেন, সীমান্ত পেরিয়ে আসা মানুষদের তৃণমূল প্রভাবিত করছে, যার ফলে রাজ্যের জনসংখ্যা কাঠামো পরিবর্তিত হচ্ছে। এখন একই দলের একজন সংসদ সদস্যের মুখ থেকে কাঁটাতার সরানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় রাজনৈতিক বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেস এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপিকে তীব্র সমালোচনা করছে। তাদের দাবি, দলটি ভোটের রাজনীতি পরিচালনায় এমন সংবেদনশীল বিষয় ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। একই সঙ্গে, এই বক্তব্য রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও দায়িত্বহীনতার ইঙ্গিত দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, একজন সংসদ সদস্যের মুখে “দুই বাংলা আবার এক হবে” ধরনের উক্তি কেবল অবিবেচিত নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতির শালীনতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা আপডেটের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া চলছে। বিজেপি দাবি করছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। অন্যদিকে তৃণমূল অভিযোগ করছে, বৈধ ভোটারদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এমন সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে বিজেপি সাংসদের মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে দলের পক্ষে বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি করেছে।

শেয়ার করুন