শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বর্তমান সরকার দেশের মানুষের কষ্ট বোঝে বলেই তেলের দাম বাড়ায়নি

বর্তমান সরকার দেশের মানুষের কষ্ট বোঝে বলেই তেলের দাম বাড়ায়নি

শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় যাদের নিজেদের তেল আছে তারাও দাম বাড়িয়েছে কিন্তু বর্তমান সরকার দেশের মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে এখনো দাম বৃদ্ধি করেনি। যতক্ষণ সম্ভব হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সরকার এই দাম বাড়াবে না।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেল নিয়ে এখন আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি, কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে তেল নেওয়ার হিড়িকের কারণে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই সবাইকে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শুক্রবার একদিনের সফরে সিলেটে আসেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির। বিকালে তার বাসভবনে সিলেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির আরও বলেন, এলপিজি গ্যাসের দাম বেড়েছে এর কারণ হলো এলপিজি গ্যাসের যে ফর্মুলায় এখানে দাম নির্ধারিত হয়। সৌদি আরবের আরামকোর একটি সিপি প্রাইজ থাকে সেটার সঙ্গে একটা প্রিমিয়াম যোগ করে মার্কেটে প্রাইজ নির্ধারণ হয়। যেখানে অরিজিন সেখানে যদি দাম বাড়ে তার প্রতিফলন এখানেও পড়বে এটাই স্বাভাবিক।

জ্বালানি তেল ইস্যুতে মন্ত্রী বলেন, যে ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ ডলার সেটা এখন ১১৬ ডলারে, তারপরও বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের পছন্দের সরকার এখনো আগের মূল্য ধরে রেখেছে। উদ্দেশ্য একটাই, মূল্য বৃদ্ধির কারণে যেন মানুষ কষ্ট না পায়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি না করে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পারবে অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত সহ্য করতে পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধিতে যাবে না।

তিনি বলেন, অন্যান্য দেশে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করেছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যাদের তেল আমদানি করতে হয় না, নিজেদেরই তেল। সেই দেশেই যেখানে প্রতি গ্যালন ৩ ডলার ছিল সেখানে কোথাও ৪ আবার কোথায় ৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ একটি দরিদ্র রাষ্ট্র যার আর্থিক সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। তারপরও মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে এই মূল্য ধরে রেখেছে। যতক্ষণ সম্ভব ততক্ষণ দাম বাড়াবে না সরকার।

জ্বালানি তেল ইস্যুতে শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানাগুলো সাধারণত গ্যাসনির্ভর, সেখানে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করেই অন্য হিসাব করা হয়। তাই জ্বালানি তেলের কারণে শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে রপ্তানি কমেছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি নয়, আশেপাশের প্রায় দেশের যারা পোশাক রপ্তানি করে তাদেরও এই খাতে রপ্তানি কমেছে। এটি একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা বলে জানান তিনি।

জ্বালানি তেল নিয়ে সারা দেশে হইচই হচ্ছে- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আতঙ্ক একটি সংক্রামক বিষয়। কেউ আতঙ্কিত হতে তার চার পাশের মানুষও আতঙ্কিত হয়।

তিনি বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, আপনি পেট্রলপাম্পে গেলে তেল পাচ্ছেন।

তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, আজ পর্যন্ত তেলের কারণে কিছু কি আটকে গেছে, যায়নি। আপনি সুইচ টিপলে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। তাই সবার প্রতি আহ্বান আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। যদি সামনের দিকে কোনো সমস্যা তৈরি হয় তবে সবাই মিলেই মোকাবেলা করব। আতঙ্কিত হলে তো কোনো অলৌকিক সমাধান আসবে না।

শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ সরকার মানুষের মেন্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই রমজান মাস এসেছে। সেখানে দেশের মানুষের সহায়তায় দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক ছিল। মানুষ আতঙ্কিত হলে বাজারে প্রভাব পড়ত। সেটা পড়েনি কারণ মানুষ সচেতন ছিল।

তিনি বলেন, জ্বালানির উৎসগুলোতে যেহেতু সমস্যার তৈরি হয়েছে। তাই এই বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সবাইকে জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। যাতে পরবর্তী দিনগুলোতে ভালো থাকা যায়।

শেয়ার করুন