শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মব কালচার দমনে কঠোর বার্তা দিলেন আইজিপি

মব কালচার দমনে কঠোর বার্তা দিলেন আইজিপি

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান মব কালচার দমনে পুলিশের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা সশরীরে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সাথে এই বিষয়ে আলাপ করেন।

আইজিপি বলেন, ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনির মতো আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং এই সমস্যা সমাধানে পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অপরাধী চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের ভেতরে থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করতে পুলিশ পিছুপা হবে না।

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, মব কালচার সমাধান করা পুরোপুরি সম্ভব, তবে এর জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সমাজের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায় না, বরং তারা বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে মব থেকে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়।

তরুণ প্রজন্ম ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে কারো যেকোনো অভিযোগ থাকতে পারে, তবে তা অবশ্যই আইনের কাঠামো এবং আলোচনার টেবিলের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া দেশের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে আইজিপি বলেন, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি না হলে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে না এবং উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তাই একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা কেবল পুলিশের একার দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। বিশেষ করে শহর অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে নাগরিকদের আইন মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তায় বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। আইজিপি জানান, ঈদযাত্রায় বা কেনাকাটার সময় সাধারণ মানুষ যাতে ছিনতাইকারীর কবলে না পড়েন এবং ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে শপিং মল এবং ব্যাংকিং এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে। কাউকে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে উৎসব উদযাপনের সুযোগ করে দিতে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে।

শেয়ার করুন