ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারী শিবিরের লোক—ডিএমপি কমিশনারের বরাত দিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সত্য নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী।
কমিশনার বলেন, “আমি শুনেছি, ‘বোগাস কথাবার্তা, ভুয়া, আমি এমন কোনও কথাবার্তা বলিনি। ইতোমধ্যে একটা রিজয়েন্ডার দেওয়া হয়েছে। এআই দিয়ে তৈরি করা একটি ছবি প্রচার করা হয়েছে, সেটি দেখেই তিনি (রুহুল কবির রিজভী) ডিএমপি কমিশনারের বরাতে বোগাস তথ্য ছড়িয়েছেন।’”
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর ন্যক্কারজনক হামলা নিয়ে কমিশনারকে উদ্বৃত করে কে বা কারা অসৎ উদ্দেশ্যে একটি ফটোকার্ড তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। সর্বসাধারণকে এসব গুজব ও মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। হামলাকারীরা ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর।
বার্তায় আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনা নিয়ে জনমনে অহেতুক বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী এ ধরনের হীন ও ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ যে কোনও মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করার জন্য জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।
প্রসঙ্গত, শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে শরিফ হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের আগে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রিজভী বলেন,
“এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে ফেসবুকে দিয়ে দিলেন— তার মানে কী ঠাকুর ঘরে কেড়ে, আমি কলা খাইনির মতো অবস্থা না?”
তিনি বলেন,“আজকে পুলিশ কমিশনার বলছে যে হত্যাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে, সে শিবিরের লোক। এখন আমি বলি, এটা তো বিএনপির কোনও নেতার স্টেটমেন্ট না। এটা যারা তদন্তকারী কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রের আইনের স্বীকৃত সংস্থা, তারা বলছেন। এখন ফেসবুকে কী লিখবেন, আমি সেই ছাত্রনেতাকে জিজ্ঞেস করতে চাই।”
রিজভী আরও বলেন,“তদন্ত হলো না, কিছু হলো না। এই এলাকায় বারবার এলেন মেয়র। তার সামাজিক অবস্থান, তার জাতীয় রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা না করেই আপনি কেবল ইউনিভার্সিটির একটি ছাত্রনেতা হয়েছেন। আপনার চেয়ে ৩৬ বছর আগে আমরা ছাত্রনেতা, আরেকটি বড় ইউনিভার্সিটির ভিপি হয়েও আমরা অন্য কোনও দলের সিনিয়র নেতাকেও এই ধরনের বাজে কথা বলে কখনও অভিহিত করিনি। আর আপনারা এটা করে দিলেন।”
তিনি অভিযোগ করেন,“পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলাকারী জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে জড়িত। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রনেতা তদন্তের আগেই মির্জা আব্বাসের নাম বলে দিলেন। শুধু একটি প্রশ্নই করবো। ঘটনার এক ঘণ্টা পরই ফেসবুকে একটি পক্ষ মির্জা আব্বাসকে গ্যাংস্টার বলেছে। এক ঘণ্টা পরই ঠাকুর ঘরে কেড়ে আমি কলা খাই না। কই, তাদের ওপর তো কোনও ধরনের হামলা হয়নি।”
রিজভী বলেন,“হাদির ওপর সন্দেহভাজন হামলাকারী আগে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিল। দেখা গেছে, সে সাদিক কায়েমের সঙ্গে একই টেবিলে বসে চা খাচ্ছে। যারা একাত্তরে গণহত্যা ও মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে, তাদের তো বিবেকবোধ বলে কিছু নেই। একটি মহল পাঁচ আগস্টের পর মব কালচার তৈরি করেছে। এই ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের নায়ক তারা। এখন তা প্রকাশ হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এ ঘৃণ্য হামলার বিচার চাই।”





