বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিয়োগ-বঞ্চিত এসআই–সার্জেন্টদের প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন দাবি

স্বরাষ্ট্র, অর্থ, জনপ্রশাসন, পুলিশ সদর দপ্তর এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে ২০০৭ সালে বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগ-বঞ্চিত এসআই ও সার্জেন্ট প্রার্থীরা দ্রুত চাকরিতে যোগদানের জন্য প্রধান উপদেষ্টার চূড়ান্ত অনুমোদন চেয়েছেন।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন চাকরিপ্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসএম সুজন চৌধুরী, শাহেদুল ইসলাম দিপু, আব্দুল মালেক, মো. ওমর ফারুক, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, রোজিনা পারভীন লুনা, আবদুর রহমান, আবুল হাসেম মিল্কি, মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম, ওয়াসিম সাজ্জাদ মল্লিক, মো. জাকের হোসেন, মোহাম্মদ আকরাম হোসেনসহ অন্যরা।

লিখিত বক্তব্যে প্রার্থীরা বলেন, ২০০৬ সালে চূড়ান্ত নির্বাচিত এবং ২০০৭ সালে নিয়োগ-বঞ্চিত এসআই ও সার্জেন্ট প্রার্থীরা দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে হাজির হয়েছি। ২০০৬ সালে নির্বাচিত ৫৩৬ জন এসআই ও ২২১ জন সার্জেন্টকে তৎকালীন আইজিপি নূর মোহাম্মদ ও ডিআইজি বেনজির আহমেদ কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন ছাড়াই কেবল একটি নোটের মাধ্যমে দলীয় ট্যাগের অভিযোগে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা করেন।

তারা উল্লেখ করেন, আইনের আশ্রয় নেওয়া সত্ত্বেও সুবিচার মেলেনি, বরং দীর্ঘ ১৮ বছর তৎকালীন সরকারের আমলে বিভিন্ন দমন–পীড়নের শিকার হতে হয়েছে।

প্রার্থীরা আরও জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে নিয়োগ পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে ৩৩০ জনের তালিকা পেশ করা হয়। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ), জনপ্রশাসনের যুগ্মসচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অ্যাডমিন)সহ ছয় সদস্যের কমিটি তদন্ত করে নূর মোহাম্মদ ও বেনজির আহমেদের বাতিলাদেশ অকার্যকর ঘোষণা করে এবং নিয়োগ পুনর্বহালের সুপারিশ করে—যা চলতি বছরের ৭ মে জমা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিও সবদিক বিবেচনায় মত দেয় যে, ২০০৬ সালের বাতিলকৃত নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশাসনিক আদেশে পুনরায় সম্পন্ন করা সম্ভব।

তাদের দাবি, পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের সুপারিশ অনুযায়ী নিয়োগ পুনর্বহালের সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হলেও ছয় মাস ১৪ দিন পার হলেও সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে অনেকে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, কেউ রাইডশেয়ারিং চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন, আবার কারও বাবা-মা অসুস্থ হলেও চিকিৎসা করানোর সক্ষমতা নেই।

সবশেষে তারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানান—২০০৭ সালে নিয়োগ বঞ্চিত ৭৫৭ জন এসআই–সার্জেন্টকে জ্যেষ্ঠতা, বয়স ও ট্রেনিংসংক্রান্ত প্রমার্জনা দিয়ে দ্রুত চাকরিতে যোগদানের অনুমতি প্রদান করে মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানান।

শেয়ার করুন