শনিবার, ২ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ত্রয়োদশ নির্বাচন হবে লাইনচ্যুত রেলকে পুনরায় লাইনে ফেরানোর মতো: ইসি সানাউল্লাহ

দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও সংস্কার কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, এবারের নির্বাচনটি হবে “লাইনচ্যুত রেলকে লাইনে এনে চালু করার” মতো। তিনি বলেন, “২০২৬ সালের নির্বাচনকে আমি যদি রূপকভাবে বলি—এটা অনেকটা লাইনচ্যুত একটি ট্রেনকে আবার লাইনে ফিরিয়ে এনে চালু করার মতো। ন্যূনতম রিপেয়ার করে, কিছু যন্ত্রাংশ বদলে অন্তত গতি দেওয়ার চেষ্টা। যদি আমরা এটা করতে পারি, এটাকেই আমরা প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে ধরতে পারি। এরপর পরবর্তী দিকনির্দেশনায় আরও উন্নতির দিকে এগোতে হবে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনজিও ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে ৮১টি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থার মোর্চা ‘এলায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ (এএফইডি)-এর একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে ও ইপিডির সহযোগিতায় ‘সিটিজেন অবজারভেশন ফর ইনক্লুসিভ অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিবিলিটি পার্লামেন্ট ইলেকশন-২০২৬’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।

অতীতের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর দায়িত্ব পালন যথাযথ ছিল না উল্লেখ করে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের জন্য ৩০০টি সংস্থা আবেদন করেছিল। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে ৮১টিকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। নতুন নিবন্ধিত সংস্থাগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, “অতীতের সংস্থাগুলোর মতো আপনারা কাজ করবেন না। নির্বাচনের মৌলিক বিষয়গুলোর যেন ব্যত্যয় না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রেখে কর্তব্য পালন করবেন। কারণ আপনাদের পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদনের কারণে কমিশন যেন বিতর্কিত হয়ে না পড়ে। এই নির্বাচনে আপনারা ফ্রি, ফেয়ার কাজ করতে পারবেন। ইসির পূর্ণ সমর্থন থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, পর্যবেক্ষকরা ইসির “তৃতীয় নয়ন” এবং আমরা চাই, তাদের পর্যবেক্ষণ মানসম্মত হোক। মৌলিক বিষয়াদির যেন ব্যত্যয় না হয়। নীতিমালার মধ্যে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এএফইডি-র সদস্য সচিব হারুন উর রশীদ। তিনি বলেন, “আমরা কোনো দলের পক্ষে বায়াসড করে প্রতিবেদন দেব না। নির্বাচনে নিরপেক্ষ প্রতিবেদন দেওয়ায় সচেষ্ট থাকব। যারাই দায়িত্ব পালন করবেন এজন্য একটি কোড অব কন্ডাক্ট তৈরি করেছি। নির্বাচনের সময় তিনটি পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করব—দীর্ঘমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি।”

ইপিডির প্রকল্প পরিচালক অ্যানেসটাসিয়া এস উবাইয়া বলেন, “নির্বাচনে কে জয়ী বা বিজিত হয়েছে সেটা আমরা বিবেচনা করি না। ভোটার ও জনগণের চাহিদার আলোকে পুরো নির্বাচনের সামগ্রিক কার্যক্রমকে তুলে ধরার জন্য আমরা পর্যবেক্ষণ করি।”

বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স দিপক এলমার বলেন, “স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আমরা একত্রে কাজ করব।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারপার্সন তালেয়া রহমান, খান ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার রোকসানা খন্দকার প্রমুখ।

শেয়ার করুন