শনিবার, ২ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সমাধিস্থলে পৌঁছেছে খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী কফিন

জানাজার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ায় লাশ রাজধানীর জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়েছে। সেখানেই স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হবে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে তার মরদেহবাহী গাড়ি জিয়া উদ্যানে পৌঁছায়। এরপর ফ্রিজার ভ্যান থেকে তার মরদেহ নামানো হয়। তারপর একটি ভ্যানে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ সমাধি চত্বরে নেওয়া হয়। সেখানে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মরদেহ লাল-সবুজ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো গাড়িতে করে তার বাসভবন ‘ফিরোজা’য় নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে কফিনবাহী গাড়ি পৌঁছলে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

দুপুর ২টা ২০ মিনিটে জানাজাস্থলে পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

লাল-সবুজ পতাকায় মোড়ানো কফিনটি জানাজাস্থল থেকে সমাধিস্থলের পথে রওনা হয়। পথজুড়ে নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ কাঁদতে কাঁদতে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

তারপর জাতীয় সংসদ দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব। জানাজার আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক অবদানের স্মৃতিচারণ করেন। সেখানে তিনি বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) বলতেন, বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, কোনো প্রভু নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া জনগণের কল্যাণে একের পর এক যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন এবং তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বে ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল।

ছবি: ভিডিও থেকে

দাফন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও কফিনের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে শেষ বিদায়ে অংশ নেন।

সমাধিস্থলে কফিন পৌঁছানোর পর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়াকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো এলাকা শোকমাখা আবহে ভরে ওঠে এবং হাজার হাজার মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

শেয়ার করুন