বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও রাজনৈতিক সম্পর্কও স্বাভাবিক রাখতে সরকার সচেষ্ট। তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক খুবই খারাপ হয়ে গেছে এমন নয়। আমরা চেষ্টা করছি যেন কোনোভাবেই এটি অস্বাভাবিক না হয়। বাংলাদেশ কোনো প্রতিবেশীর সঙ্গেই তিক্ত সম্পর্ক চায় না।”

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক সম্পর্ক কী হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি সবসময় বাণিজ্য এবং রাজনীতিকে আলাদা করে দেখতে বলি। ভারত থেকে চাল আমদানি না করে যদি ভিয়েতনাম থেকে আনতে হয়, তাহলে প্রতি কেজিতে আরও ১০ টাকা বেশি খরচ পড়বে। যদি ভারত থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে চাল পাই, তাহলে অন্য দেশ থেকে আনব না। ভারতের কাছ থেকে চাল আমদানির খবর শুনলে কিছুটা খুশি হবে।”

ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, “সম্পর্ক এখনও মোটামুটি আছে। ফরেন ইস্যুতে রেটরিক্স অনেক বেশি হয়। রাজনীতিবিদরা অনেক সময় এমন বক্তব্য দেন যা বলার জন্যই বলা হয়। তবে আমি বিশ্বাস করি, সম্পর্ক একেবারে খারাপের দিকে যাবে না।”

উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার প্রয়াস হিসেবে আগেও ভারত থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পেঁয়াজ আমদানি নিয়ে কিছুটা দেরি হয়েছে, নইলে দাম আরও কমতে পারত।

সাংবাদিকদের ‘আপনাদের হাতে দেড় মাস সময় আছে, এই সময়ে রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে সরকার কী করবে’—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। তিনি জানান, ভারতের বিষয়ে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা সবশেষ পরিস্থিতি জানেন। “এ বিষয়ে সব বিস্তারিত বলা যাবে না। আমি নিজে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। বাইরে গণমাধ্যমে যেসব শোনা যায় বা বক্তব্য আসে, সেগুলো সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। আপনারা তো আবার গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও চান।”

দেশের একটি বড় অংশ ভারতবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যারা এসব কথা বলছে, তারা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলছে। তবে এগুলো আমাদের জাতীয় অনুভূতি নয়। পার্শ্ববর্তী দেশসহ কোনো দেশের সঙ্গেই আমরা এমন সম্পর্ক চাই না। ভারতও বিষয়টি মূল্যায়ন করে দেখে যে সবাই এসব বিশ্বাস করে না।”

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে চাই কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “ডেফিনিটলি ভালো রাখতে চাই। খারাপ তো কিছু হয়নি।”

এ ধরনের বক্তব্য বন্ধ করতে সরকার কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “সবকিছু কী বন্ধ করা যায়? কেউ দাঁড়িয়ে কোনো বক্তব্য দিলে সেটি থামানো সব সময় সম্ভব নয়।”

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে কারা কথা বলেছেন—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টার বন্ধুবান্ধব আছেন যাদের ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যারা ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, তারাও এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখছেন।

বিদেশি কোনো শক্তি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নষ্ট করতে ইন্ধন দিচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, “সেই কারণেই আমরা চাই দুই দেশের মধ্যে কোনো তিক্ততা না থাকুক। বাইরে থেকে কেউ কিছু করে থাকলেও আমরা চাই না, তা যেন দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলে। আপাতদৃষ্টিতে কোনো বড় সমস্যা নেই। আমাদের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক কোনো জটিলতায় নেই। রাজনৈতিকভাবে তারা আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না। মাঝেমধ্যে দুই পক্ষ থেকেও কিছু বক্তব্য আসে। কেউ যদি কিছু করে থাকে, সেটাকে পুরোপুরি অস্বীকার করা সম্ভব নয়, তবে আমরা চেষ্টা করছি যেন কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি না হয়।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমরা আঞ্চলিকতায় বিশ্বাস করি। আমাদের প্রধান উপদেষ্টা বারবার বলেছেন, বাংলাদেশ রিজিওনালিজমে বিশ্বাস করে। ভারত আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী। ভুটান, নেপাল, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। শুধু বাংলাদেশকে নিয়ে একা থাকা সম্ভব নয়। অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসহ নানা ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।”

শেয়ার করুন