সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক

আজ (২২ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বাজেট কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

বৈঠকে দেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক সূচকগুলো বিশদভাবে আলোচনা করা হয়। মূল্যস্ফীতি, মজুরি প্রবৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, চলতি হিসাব, প্রবাসী আয়, আমদানি এবং শিল্প খাতে ঋণপত্র খোলার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে দেশের ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.২৯ শতাংশে, যা জুন ২০২৫-এর পর ধারাবাহিকভাবে কমছে। সরকারী সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও কৃচ্ছ সাধনের কারণে ২০২৬ সালের জুনে এটি ৭ শতাংশের নিচে নামার আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

মজুরি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে জানানো হয়, মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৃদ্ধির পার্থক্য কমেছে। নভেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার ৮.০৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় বাস্তব আয়ের উন্নয়নের পথ সুগম করছে।

কৃষি খাতে বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় আমন ধানের ফলনও সন্তোষজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমন ধানের উৎপাদন ১৬০.৯৫ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। আউশ ধানের উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৭.২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার থেকে কিছুটা কম।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইতিবাচকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা ২০২৪ সালের আগস্টে ছিল প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। স্থিতিশীল বিনিময় হার, প্রবাসী আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সুদের হার বৃদ্ধির ফলে রিজার্ভ আরও বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

চলতি হিসাবেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি এসেছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে ৭৪৯ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি ছিল, যা অর্থবছরের শেষে মাত্র ১৩৯ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। প্রবাসী আয়ও গত বছরের তুলনায় ১৭.১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে প্রায় ৫ লাখ কর্মী বিদেশি নিয়োগে নিশ্চিত হয়েছেন।

আমদানি খাতে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির জন্য কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে আমদানি প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশে পৌঁছেছে।

শিল্প খাতেও ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে ঋণপত্র খোলার হার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শিল্পে আস্থা ফিরিয়ে আনছে।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা মন্তব্য করেন, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার হওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার ছোঁয়া ফিরে এসেছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

শেয়ার করুন