রবিবার, ৩ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শহীদ হাদির মরদেহ “বিদ্রোহী কবির” পাশেই শায়িত করা হচ্ছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ দাফনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহ বহনকারী গাড়িবহর ঢাবির উদ্দেশে রওনা দেয়। এ সময় সড়কের দুই পাশে অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। পুরো পথজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

জানাজায় ইমামতি করেন শহীদ হাদির বড় ভাই ড. মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক। এতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা শহীদ হাদির আত্মত্যাগ স্মরণ করেন এবং তার আদর্শ ধরে রাখার আহ্বান জানান।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দাফনকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাষ্ট্রীয়ভাবে একদিনের শোক পালনের পাশাপাশি জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে শহীদ হাদির দাফনকে অনেকেই প্রতীকী গুরুত্বের বলে মনে করছেন। তারা বলছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজীবন সোচ্চার থাকা এক সংগ্রামী মানুষের শেষ ঠিকানা বিদ্রোহী কবির সান্নিধ্যে হওয়ায় ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হলো।

শেয়ার করুন